পর্যটকদের খাবার নিয়ে ৩ রিসোর্টে ভয়াবহ অনিয়ম: বার্গী লেককে ২ লাখ টাকা জরিমানা


আলমগীর মানিক    |    ০৭:৩১ পিএম, ২০২৬-১০-০৭

পর্যটকদের খাবার নিয়ে ৩ রিসোর্টে ভয়াবহ অনিয়ম: বার্গী লেককে ২ লাখ টাকা জরিমানা

আলমগীর মানিক

কাপ্তাই হ্রদের নীল জল, পাহাড়ের সবুজ আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক আসেন রাঙামাটিতে। শহর থেকে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরতে গিয়ে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেন তারা। কিন্তু পর্যটনের এই সম্ভাবনাকে ঘিরে গড়ে ওঠা কিছু রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্টে খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার।

এবার মোবাইল কোর্টের অভিযানে ধরা পড়েছে এমনই গুরুতর কিছু অনিয়ম। রাঙামাটি সদরের বিভিন্ন রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পরিচালিত অভিযানে সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, বাসি-পচা খাবার সংরক্ষণ এবং অননুমোদিত নকল মসলা ব্যবহারের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।

অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ও ৫২ ধারা ভঙ্গের দায়ে বার্গি রিসোর্টকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে ৩৯ ধারা ভঙ্গের দায়ে রেজাং রিসোর্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তামজিদ রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রানা দেব নাথ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টে পর্যটকদের কাছ থেকে সেবার মূল্য নেওয়া হলেও মূল্য তালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন না করা, সংরক্ষিত খাবারের মান ও মেয়াদ নিয়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিশেষ করে বার্গি রিসোর্টে বাসি-পচা খাবার সংরক্ষণ এবং অননুমোদিত নকল মসলা ব্যবহারের বিষয়টি অভিযানে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে সামনে আসে। পর্যটকদের খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এমন অনিয়মকে উদ্বেগজনক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাঙামাটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন জেলা। কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন পর্যটন স্পট, পাহাড়ি প্রকৃতি ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার এ জেলার পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম অংশ। বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদের মাছসহ স্থানীয় নানা খাবারের স্বাদ নিতে পর্যটকেরা বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্টে ভিড় করেন।

তবে পর্যটকদের এই আগ্রহ ও নির্ভরতার সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বাসি খাবার, নিম্নমানের বা নকল মসলা কিংবা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশন করে, তাহলে তা শুধু ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না; ক্ষুন্ন করে পুরো রাঙামাটির পর্যটন ভাবমূর্তিও।

স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন পর্যটক রাঙামাটিতে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি যে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন, তার বড় অংশ নির্ভর করে খাবার, আবাসন ও সেবার মানের ওপর। ফলে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের নেতিবাচক প্রভাব পুরো পর্যটন খাতের ওপর পড়তে পারে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে রাঙামাটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন কিংবা খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পর্যটকদের কাছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ যেমন সৌন্দর্যের প্রতীক, তেমনি এখানকার খাবার ও আতিথেয়তাও পর্যটন অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ব্যবসার নামে অনিয়ম বন্ধ করে নিরাপদ খাবার ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।