সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, আটকা পর্যটকরা


মেহেদী হাসান    |    ০৩:০২ পিএম, ২০২৬-১০-১১

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, আটকা পর্যটকরা

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাতায়াতের সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবরোধের শুরু থেকেই সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ফিরে আসা এবং নতুন পর্যটকদের সেখানে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার যৌথ বিবৃতিতে অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে সংগঠন দুটি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠন দুটি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা (৮) নামে এক শিশু আহত হয়। এসব ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠন দুটি।

এদিকে অবরোধের কারণে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং নতুন পর্যটকদের সেখানে প্রবেশের ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, অবরোধের কারণে আগের মতো দুই দফার পরিবর্তে দুপুর ২টায় একবার স্কর্ট চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই স্কর্টের মাধ্যমে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নামিয়ে আনা এবং নতুন পর্যটকদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অবরোধ কর্মসূচির বিষয়ে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মরদেহ বহনকারী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের যানবাহন এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

তবে অবরোধ কত দিন চলবে এবং সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল কখন শুরু হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।