তেল পরিমাপে অনিয়ম; রাঙামাটিতে দুই ফিলিং স্টেশনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা


আলমগীর মানিক    |    ১২:৪৬ এএম, ২০২৬-১০-১২

তেল পরিমাপে অনিয়ম; রাঙামাটিতে দুই ফিলিং স্টেশনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

আলমগীর মানিক

রাঙামাটিতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে পরিমাপসংক্রান্ত অনিয়মের দায়ে দুটি ফিলিং স্টেশনকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের সন্ধান পাওয়া যায়। এতে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করেও পরিমাণ অনুযায়ী তেল না পাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন গ্রাহকরা।

অভিযান চলাকালে রাজবাড়ী এলাকার এসএন পেট্রোলিয়াম এজেন্সি ফিলিং স্টেশনকে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ৪৬ ধারায় এক লাখ টাকা এবং কল্যাণপুর এলাকার মেসার্স তান্যাবী ফিলিং স্টেশনকে একই আইনের ৪৮ ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। জ্বালানি তেল বিক্রির পরিমাপ ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রের মানদণ্ডসংক্রান্ত অসংগতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানা করা হয়।

ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ৪৬ ধারায় চুক্তি বা মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে প্রাপ্য পরিমাণের চেয়ে কম পণ্য বিক্রি বা সরবরাহের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, ৪৮ ধারায় নির্ধারিত পদ্ধতিতে যাচাই ও সিলযুক্ত নয়, এমন বাণিজ্যিক ওজন বা পরিমাপযন্ত্র ব্যবহার কিংবা বৈধ যাচাই সনদ ছাড়া ব্যবহারের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ৪৬ ধারার অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড এবং ৪৮ ধারার অপরাধে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

জ্বালানি তেল কেনার সময় গ্রাহকেরা নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু পরিমাপে কারচুপি বা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রের ব্যবহার থাকলে গ্রাহককে তাঁর প্রাপ্য পরিমাণের চেয়ে কম তেল নিয়ে ফিরতে হতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়, ভোক্তার আর্থিক স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষারও প্রশ্ন।

তাই ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত পরিমাপ যাচাই, যন্ত্রের বৈধতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে জ্বালানি বিক্রিতে স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়বে।