বান্দরবানে গণপূর্ত বিভাগের দরপত্রে কেরামতি! 


নুরুল কবির    |    ১২:৩০ এএম, ২০২৩-০৬-২৩

বান্দরবানে গণপূর্ত বিভাগের দরপত্রে কেরামতি! 

বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের আস্তাবাজন ঠিকাদারের কাজ পাইয়ে দিতে এবং প্রকল্পের টাকা জায়েজ করতে বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের তড়িঘড়ি করে দরপত্র আহবান এবং অফিস শুরুর আগে খুব অল্প সময়ে আরএফকিউইউ এর দরপত্র জমাদানের প্রক্রিয়া শেষ করা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধে। গত ২০ ও ২১ জুন সকালে ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে মোট ৭টি প্রকল্পের দরপত্র গ্রহনের কার্য সম্পাদন করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের এমন তড়িঘড়ি করে প্রকল্প গুলোর দরপত্র জমাদানের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় ঠিকাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। 

জানা গেছে, চলতি জুন মাসের মধ্যে প্রাপ্ত বাজেটের টাকা শেষ করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগ ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে ২০ জুন বান্দরবান জেলায় আরএফকিউইউ এর  মাধ্যমে ৬টি এবং ২১ জুন ১টি প্রকল্পের দরপত্র আহবান করে। ইজিপির লাইভ টেন্ডারে প্রকল্পের দরপত্র জমাদানের জন্য সময় দেয়া হয়েছে সর্ব্বোচ্চ ২ ঘন্টা। শুধু তাই নয় বেশীর ভাগ প্রকল্পের দরপত্র জমাদানের সময় শেষ হয়েছে অফিস শুরুর আগেই। প্রকল্পগুলোর জন্য ২ লাখ টাকা করে ৭ টি প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্ধের পরিমান ১৪ লক্ষ টাকা।

প্রকল্প গুলো হল বান্দরবান গণপূর্ত অফিসের পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পানি সাপ্লাই মেরামত কাজ, গণপূর্ত অফিসের কাঁটা তার ও সীমানা প্রাচীর মেরামত, বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পয়নিষ্কাশন পানি সাপ্লাই ও ড্রেন মেরামত, বান্দরবান শিশু পরিবারের ইলেক্ট্রেসিটি মেরামত ফ্যান তার পরিবর্তন, ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধে বান্দরবান জেলখানার উঠান ও ড্রেন পরিস্কার, ও ড্রেন পরিস্কার এবং বান্দরবান সদর হাসপাতালের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক কাজের মেরামত ট্রান্সফরমারের তার পরিবর্তন।

এর মধ্যে একটি প্রকল্পে দরপত্র জমাদানের সময় শুরু হয়েছে ভোর ৬ টা ৫৫ মিনিটে এবং শেষ হয়েছে সকাল ৮ টা ২৫ মিনিটে যা অফিস সময় শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও ৩টি প্রকল্প ৭ টা ৩০ থেকে ১০ টা পর্যন্ত এবং বাকী গুলোও ৮ টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চালু ছিল যে কারনে বেশীর ভাগ প্রকল্পে ঠিকাদাররা দরপত্র জমা দিতে পারেন নি। অফিসের এমন কান্ডে হতবাক স্থানীয় ঠিকাদাররাও। 

গণপূর্ত বিভাগ বান্দরবানের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার কামরুজ্জামান বলেন, এভাবে দরপত্র দেয়ার কোন নিয়ম নেই। তড়িঘড়ি করে কাজ না করে জুন মাসের মধ্যে বিল উত্তোলন করার জন্য এটা করেছে। ভোর বেলা অল্প সময়ের জন্য টেন্ডার আহবান করেছে যাতে অন্য কোন ঠিকাদার দরপত্র সাবমিট করতে না পারে এবং অফিসের লোকজন নিজেদের পছন্দমত কোটেশন দিয়ে কাজ গুলো সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করে নিবে।

স্থানীয় ঠিকাদার মেহেদী হাসান জানান, এটা শুধু মাত্র আইওয়াশ। প্রকল্পের নাম দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার জন্য নাম খোয়াস্তে এ দরপত্র দেয়া হয়েছে। না হলে অফিস শুরু হওয়ার আগে দরপত্র ওপেন করা হয়েছে এবং অল্প সময়ে আবার শেষ করে দেয়া হয়েছে। সে সময় অনেকে ঘুম থেকেও উঠেনি। কারন জুন মাস শেষ হয়ে গেলে এ টাকা আর উত্তোলন করতে পারবে না। আর ২০ তারিখ দরপত্র আহবান করা হয়েছে কাজ শেষ করবে কখন বুঝে নিবে কখন সময় আছে ৪/৫ দিন। এটা আসলে কাগজে কলমে প্রকল্প দেখিয়ে বিল উত্তোলন করার একটি পায়তারা ছাড়া আর কিছুই না। 

এ বিষয়ে বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুমিত রায় বলেন, আমাদের হাতে সময় নেই জুন মাস কাজের চাপ বেশী তাই তাড়াহুড়া করে প্রকল্প গুলো দরপত্র আহবান করে কাজ শুরু করে দেয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে রেসপনসিভ লাইসেন্স কোটেশন জমা দিয়েছে সেখান থেকেই যোগ্য টাকে কাজ দেয়া হয়েছে। আর ইজিপি প্রক্রিয়ার মধ্যে এটি গ্রহন যোগ্য হয়েছে বলে করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্ষাকাল এসে বিভিন্ন দপ্তর থেকে ফোন আসছে কাজ গুলো তাড়াতাড়ি করার জন্য। তাই একটু তাড়াহুড়া করে টেন্ডারের কাজগুলো করতে হয়েছে। তবে আগে এভাবে অল্প সময়ে করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, শুধু আরএফকিউইউ ই নয় এই দপ্তরের বিভিন্ন দরপত্র নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের দেয়ার জন্য বিভিন্ন কাজের দরপত্রে এধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।