খাগড়াছড়িতে কালের বিবর্তনে অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে; কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১১:০৯ পিএম, ২০২৩-০৭-২৫

খাগড়াছড়িতে কালের বিবর্তনে অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে; কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

এক সময় পার্বত্যাঞ্চলে অনেক মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু কালের পরিবর্তনে আজ প্রায় অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স’র চেয়ারম্যান(প্রতিমন্ত্রী পদ-মর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। তিনি বলেন, এক সময় এই দেশ মাছে সমৃদ্ধ ছিল। মাঝখানে সেটি হারিয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের অভাবনীয় চিন্তায় মাছে দেশ এখন দ্বিগুণ সমৃদ্ধ হয়েছে। বেকারত্ব দূর হয়েছে এবং দেশে মাছের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখছে। তাই চিংড়ি মাছসহ বিভিন্ন আমিষ জাতীয় মাছের উৎপাদনে পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। যাতে আমিষের ঘাটতি পূরন করা সম্ভব হয়। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় “নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিউটের প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করেন, ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স’র চেয়ারম্যান(প্রতিমন্ত্রী পদ-মর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।
পরে আলোচনা সভায় ভ্যালেন্টিনা ত্রিপুরা’র সঞ্চালনায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও মৎস্য বিভাগের আহ্বায়ক শতরুপা চাকমা’র সভাপতিত্বে অত্র ইনস্টিউটের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শানে আলম, জেলা পরিষদের সদস্য কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, খাগড়াছড়ি সদর সার্কেল’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তৌফিকুল আলম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আরিফ হোসেন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি আরো বলেন, মাছ অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। বেঁচে থাকতে হলে আমাদের শরীরের জন্য আমিষে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মাছে আমিষের পরিমাণ বেশি থাকে। মাংসের চেয়ে মাছে আমিষের পরিমাণ বেশি হওয়ায় আজ দেশে বিদেশে মাছের চাহিদা বেশি। তাই আমাদের মাছের চাহিদা বৃদ্ধি লক্ষ্যে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের সহকারী পরিচালক শরৎ কুমার ত্রিপুরা, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) মো. জসীম উদ্দিন, জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. আফাজ উদ্দিন, প্রেস ক্লাবের সভাপতি জীতেন বড়ুয়া, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা ত্রিনা চাকমাসহ মৎস্য চাষী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।