পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বৈরাচারি-ফ্যাসিষ্টদের পূণর্বাসনে বিশেষ বরাদ্দ কর্মসূচী


আলমগীর মানিক    |    ০৩:০৯ এএম, ২০২৫-০৩-২৮

পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বৈরাচারি-ফ্যাসিষ্টদের পূণর্বাসনে বিশেষ বরাদ্দ কর্মসূচী

আলমগীর মানিক

৫ই আগষ্টের পর সারাদেশ থেকে আওয়ামীলীগ নেতা ও আওয়ামী দোসররা পলাতক থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামী পুনর্বাসনে বিশেষ কর্মসূচী নিয়ে কাজ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
 
পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে পরপর দুইদিনে বিশেষ বরাদ্দ কর্মসূচীর আওতায় অকল্পনীয় পরিমানের খাদ্যশস্য বরাদ্দ প্রদানের তথ্য লিক হওয়ার পর এমন অভিযোগ উঠেছে তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে।
 
এই বরাদ্ধের আওতায় প্রতিটি জেলাতেই পলাতক আওয়ামীলীগ নেতাদের অনুকূলে স্বনামে-বেনামে এসব বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে।
 
এরমধ্যে আওয়ামীলীগের পলাতক চেয়ারম্যান আওয়ামী ল্যাস্পেন্সার সাংবাদিক, ভূইফোড় সামাজিক সংগঠন এবং সরাসরি ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামীলীগ নেতাসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের তেমন কাউকেই বাদ দেওয়া হয়নি। অথচ,এসব বরাদ্দের মাঝে নেই জুলাই আন্দোলনে আহত পরিবার বা মূল চালিকাশক্তি বিএনপি জামায়াতের কোনো নেতৃবৃন্দের নাম।
 
এদিকে অভিযোগ উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্ঠার তার নিজ জেলা এবং অন্য দুই জেলায় তার আত্মীয় স্বজনকেই বরাদ্ধ প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
 
এই বরাদ্দ থেকে বাদ যায়নি পাহাড়ের নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত অস্ত্রধারী আঞ্চলিকদলীয় সন্ত্রাসীরাও।

এই ধরনের অকল্পনীয় বরাদ্দ প্রদানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
 
সংগঠনগুলোর বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, পার্বত্য উপদেষ্টার এই ধরনের পক্ষপাতমূলক লুটপাঠের বিরুদ্ধে শীঘ্রই তারা আন্দোলনে নামবে।

২৫/০৩/২০২৭ ইং তারিখে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের স্মারক নাম্বার-২৯.০০.০০০০.২২৩.২০.০১২.২৪-৩৯ উল্লেখিত পত্রে জানানো হয়, রাঙামাটি জেলায় সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের সার্বিক উন্নয়ন/চিকিৎসা বাবদ সহায়তা/আর্থ-সামাজিক সার্বিক উন্নয়ন এর জন্য তাদের অনুকূলে এককালীন আর্থিক অনুদান/সহায়তা প্রদান এর জন্য রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বরাবর এক কোটি বাইশ লক্ষ বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদানে পত্র জারি করা হয়েছে। 
 
এই পত্রে উল্লেখিত সুবিধাভোগিদের নামের তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক শোড়গোল শুরু হয়।
 
বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যদিয়েই বৃহস্পতিবার রাতে আরেকটি তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
 
পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের স্মারক নাম্বার-২৯.০০.০০০০.২২৩.২০.০১৩.২৪-৪৭ এর তারিখ: ২৭/০৩/২০২৫ইং এর এই পত্রে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ প্রকল্প কর্মসূচীর আওতায় ২ হাজার ৫শ ৬৪ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য (চাউল) রাঙামাটি জেলা পরিষদ বরাবরে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। 
 
এই বরাদ্দ প্রাপ্তদের এক তৃতীয়াংশই বিগত ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিষ্ট সরকারের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে জুলাইয়ের আন্দোলনে আন্দোলনরতদের উপর হামলার নেতৃত্বে জড়িত বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
 
এছাড়াও এই বরাদ্দ প্রাপ্তদেরমধ্যে এখনো পর্যন্ত অনেকেই তাদের এলাকায় জনরোষের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

আসন্ন ঈদ, কয়েকদিন পর আসছে বিজু, সাংগ্রাইসহ নানান উৎসব। এতে করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিদিন ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ওএমএস ও টিসিবি পণ্য ক্রয়ের জন্য পাহাড়ের অধিকাংশ স্থানীয় বাসিন্দারা ঘন্টার পর ঘন্টা সামান্য কমমূল্যের দুমুঠো চাল সংগ্রহের আপ্রাণ চেষ্ঠায় থাকে সেই পাহাড়েই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে গরিবের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য শস্য স্বৈরাচার-ফ্যাসিষ্টদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কার স্বার্থ বাস্তবায়ন করছে এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।