রাঙামাটিতে ইউএনও’র কাছে এনসিপি পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ! অস্বীকার বাগছাস নেতার


আলমগীর মানিক    |    ০৭:৩৩ পিএম, ২০২৫-০৮-০৭

রাঙামাটিতে ইউএনও’র কাছে এনসিপি পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ! অস্বীকার বাগছাস নেতার

রাঙামাটি রাঙামাটিতে ইউএনও’র কাছে এনসিপির নাম দিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় প্রশাসনের অভ্যন্তরে তোলপাড় চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জনৈক সর্বজিত চাকমা তার এক সঙ্গীকে নিয়ে রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসারের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে জানাগেছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক বর্তমানে বাইরে অবস্থান করছেন তিনি আসলে তার নির্দেশনানুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, বিষয়টিকে ভূল বুঝাবুঝি হয়েছে জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির রাঙামাটি জেলার প্রধান সমন্বয়কারি বিপিন জ্যোতি চাকমা জানিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এর।

আমাদের এনসিপির কেউ নয়। বিষয়টি আমার নলেজে আসার পরে আমি ইউএনও এর সাথে কথা বলেছি। আসলে এটা একটা ভূলবুঝাবুঝি; সে আসলে ষ্টুডেন্টতো বাচ্চা ছেলে; কিভাবে কি বলেছে বুঝতে পারেনি। পরে আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি; ইউএনওর কাছেও বলেছি তাকে সেভাবে যেন সুযোগ দেওয়া না হয়। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবেও ব্যবস্থা নিবো।

অপরদিকে সর্বজিৎ চাকমার কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি চাঁদা দাবি করিনি। বাঘাইছড়িতে পানিবন্দী মানুষজনের জন্য আমরা সহায়তা নিয়ে যাবো সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনানুসারে আমরা সহায়তা সংগ্রহ করছিলাম। আমাদের কাছে অনেকেই সাহায্য চেয়েছে তাই আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি ও অঙ্গসংগঠন নিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত টাকা থেকে কিছু কিছু টাকা উঠাচ্ছি। সেগুলো নিয়ে ত্রাণ দিবো এই লক্ষ্যে।

আমরা বিপিন দাদাকে বলেছি আপনি সেন্ট্রাল থেকে কিছু একটা ব্যবস্থা করেন। তিনি অলরেডি ঢাকায় অবস্থান করতেছেন এবং নাহিদ ভাইয়ের রুমে আছেন। নাহিদ ভাইকে বললে তিনি বলেছেন সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করো এবং লোকাললি সরকারী দপ্তরগুলো থেকে যেন কিছু সহায়তা চাই। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা আজকে ইউএনওর কাছে গিয়েছি সাহায্যের জন্য। তার রুমে ঢোকার সাথে সাথেই তিনি রাপ এন্ড টাপ ব্যবহার করেছেন আমাদের সাথে। আমরা কি আর্থিক সাহায্য চাইতে গিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো রাঙামাটিতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কোনো কমিটি গঠন করিনি। এনসিপির সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করতেছি।

জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ০৭ অগাস্ট ২০২৫ ইং তারিখ আনুমানিক দুপুর ১.৪০ টায় রাঙামাটি জেলার এনসিপি রাজনৈতিকদলের পরিচয়ে ২ জন ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দেখা করতে চান। উল্লেখ্য যে গত ০২/০৮/২০২৫ খ্রি তারিখে বেলা ৩.০৪ টায় এনসিপি এর জেলা কমিটির একজন কর্মীর পরিচয়ে সর্বজিত নামক এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসিয়াল নম্বরে ফোন করেন। ফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অর্থ দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, প্রকল্প দেয়ার দাবি করেন।

রাজনৈতিক দলের ব্যানারে উপজেলা থেকে প্রকল্প দেয়া হয় না। জানালে সর্বজিত জানান "তাহলে সমিতির নামে দিবেন, অসুবিধা কি? "পরবর্তীতে অদ্য ০৭/০৮/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখ বেলা আনুমানিক ১.৪০ টায় সর্বজিত এবং আরেকজন ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপূর্বে তারা ইউএনও এর এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার এর নিকট ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার একটি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হয়ে কিভাবে তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এনসিপি পরিচয় ধারী যাওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলে যান," আপনার জন্য শুভকামনা, আপনার সামনের যাত্রা শুভ হোক"। সদর উপজেলার ইউএনও এর অফিস কক্ষে এধরনের ঘটনা বিব্রতকর বলেও অভ্যন্তরীণ গ্রুপে প্রদত্ত ম্যাসেজে উল্লেখ করা হয়।