রাঙামাটিতে এক টার্মিনালেই ফ্যাসিবাদের ২০ দোকান! রাস্তায় রাখছে ট্রাক; ঘটছে দূর্ঘটনা


আলমগীর মানিক    |    ০২:৪৪ পিএম, ২০২৫-০৯-০৩

রাঙামাটিতে এক টার্মিনালেই ফ্যাসিবাদের ২০ দোকান! রাস্তায় রাখছে ট্রাক; ঘটছে দূর্ঘটনা

আলমগীর মানিক

 

দেশের অন্যতম পর্যটন শহর হিসেবে পরিচিত রাঙামাটি শহরে অপরিকল্পিতভাবে যানবাহন অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখায় প্রায় সময়েই শহরের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে। আনুমানিক ৬ বগর্ কিলোমিটার আয়তনের রাঙামাটি শহরে ৬ শতাধিক পণ্যবাহি ট্রাকসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো গাড়ি চলাচল করে প্রতিনিয়ত। 

শহরের অন্যতম প্রধান যানবাহন বাস ও ট্রাক রাখার জন্য দুইটি ট্রার্মিনাল থাকলেও সেগুলোতে অবৈধ দখলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও টার্মিনালের ভেতরে যত্রতত্র দোকান বরাদ্দ দিয়ে স্থান সংকুচিত করে ভাড়া ও মাসোহারা আদায় করার ফলে পুরো শহরজুড়েই বিভিন্ন স্থানে পথচারিদের চলাচলের পথেই রাখা হচ্ছে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে করে সড়কে যান চলাচলে বিঘœ ঘটার পাশাপাশি দূর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাঙামাটি পৌরসভার একমাত্র ট্রাক টার্মিনালটিতে ট্রাক রাখার মতো স্থান অনেকটাই সংকুচিত। স্থানীয় চালক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এই ট্রাক টার্মিনালটিতে অন্তত ২০টি দোকান বরাদ্দ দিয়ে সেগুলো থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। অথচ কাগজে পত্রে টার্মিনাল ইজারা দিয়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ রয়েছে। 

বিগত ২০০১ সালে কাজ শুরু করে ২০০৫ সালে এই টার্মিনালটি নির্মাণ করে রাঙামাটি পৌরসভা। বর্তমানে এই টার্মিনালে শ্রমিকদের জন্য ২টি রুম শ্রমিকদের জন্য আছে। বাকিগুলো তথাকথিত গোডাউন বানিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ এগুলো কোনো কাজেই আসতেছেনা বলে জানিয়েছেন চালক সমিতির নেতা সিরাজ। তিনি জানান, আমরা জায়গার অভাবে টার্মিনালে গাড়ি রাখতে পারতেছিনা। 

তিনি জানান, টার্মিনালে প্রায় ৬শতাধিক ড্রাইভার যারা প্রত্যেকেই শ্রম অধিদপ্তরের অন্তভূক্ত। তারা প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্তে চলাচল করে টার্মিনালে আসা যাওয়া করে। এতে করে গাড়ি রাখার পাশাপাশি বিশ্রামের প্রয়োজন হলেও কোনোটাই পারতেছেনা। সিরাজ জানান, ইতিমধ্যেই আমাদের জন্য আরেকটি টার্মিনাল তৈরি করে দেয়ার জন্য আমরা লিখিত আবেদন করেছি। 

অপরদিকে, সরেজমিনে গিয়ে দোকানদারদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা মাসিক ভাড়া পৌরসভার জনৈক প্রতিনিধির কাছে দিয়ে দিই। তিনি আমাদেরকে জমা স্লিপ এনে দেন। অধিকাংশ দোকানদারের মেয়াদ আরো আগেই শেষ হয়ে গেলেও সেগুলো নবায়ন না করেই চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পৌরসভার জনৈক ব্যক্তি প্রতিজন দোকানদারের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে দোকান প্রতি ২শ থেকে ৫শ টাকা করে তুলে নিয়ে যায়। 

টার্মিনালে অপরিকল্পিতভাবে কতগুলো ঘর তৈরি করে রাখায় স্থান সংকুচিত হয়ে গেছে জানিয়ে শ্রমিকরা জানিয়েছে, শুধুমাত্র গোডাউনের নামে ঘরগুলো সরিয়ে নিলে আরো অন্তত ৫০টি ট্রাক বেশি রাখা যাবে। 

অপরদিকে, টার্মিনালের ইজারাদাররা জানিয়েছেন, কাগজেপত্রে তারা পুরো টার্মিনাল ইজারা নিয়েছেন এমনটি উল্লেখ থাকলেও এই টার্মিনালের একটি বিশাল অংশ দোকান ভাড়া ও পৌরসভার নষ্টগাড়ি রেখে দখলে রাখা হয়েছে। ইজারা দেওয়া টার্মিনালের দোকানের ভাড়া রহস্যজনকভাবে আদায় করছে পৌরসভার একটি চক্র। 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে সেসময়ের কয়েকজন নেতা অবৈধভাবে টাকা নিয়ে টার্মিনালের ট্রাক রাখার জায়গায় দোকান তুলে বিপুল অংকের বিনিময়ে সেগুলো ভাড়া দিয়েছে। যার ফলে টার্মিনাল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

শীঘ্রই রাঙামাটির পৌর ট্রাক টার্মিনালটিকে দোকান ও যত্রতত্র বানানো ঘরগুলো ভেঙ্গে জায়গা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট্য চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা।