আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জামাতের মতবিনিময় সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০১:৩৩ এএম, ২০২৫-০৯-১৭

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জামাতের মতবিনিময় সভা

নাজিম আল হাসান


আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা জামায়াতে ইসলামী এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সভায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের প্রতি শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার বার্তা দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, দেশের প্রতিটি উৎসব জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রাঙামাটি জেলা শহরের জামায়াত কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মনছুরুল হক। সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ২৯৯ নং আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোখতার আহম্মদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুস সালাম, রাঙামাটি জেলা পৌরসভার আমীর হাফেজ আবুল বাসার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ও জেলা পৌরসভার সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট রহমত উল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সভাপতি দয়াল দাস, পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন কান্তি মহাজন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দে, আহ্বায়ক বরুণ চন্দ্র রায়, যুগ্ম আহ্বায়ক নন্দন দেব নাথসহ রাঙামাটি শহরের ১৩টি পূজা মণ্ডপের নেতৃবৃন্দ।

সভায় অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। আমাদের সংস্কৃতিতে এমন অনেক উৎসব রয়েছে, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে উদযাপন করে। আমাদের এই সম্প্রীতি আগামীতেও অটুট থাকবে।”

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে জামায়াত সবসময় সতর্ক থাকবে। দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়া সভায় জানানো হয়, জামায়াতের নেতৃবৃন্দ পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এবং ধর্মীয় সহাবস্থান ও সবার ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকারও সভায় করা হয়। একই সঙ্গে পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে নেতারা ঘোষণা দেন।

বক্তারা বলেন, দেশে এক শ্রেণির মানুষ ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই অসাম্প্রদায়িক এবং তারা কখনোই এই অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না। আগামী দিনেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।