পার্বত্য ভূমি কমিশন বাতিলের দাবিতে রাঙামাটিতে স্মারকলিপি


নাজিম আল হাসান    |    ০৫:০২ পিএম, ২০২৫-১০-১৫

পার্বত্য ভূমি কমিশন বাতিলের দাবিতে রাঙামাটিতে স্মারকলিপি

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ ও নতুন কমিশন গঠনের দাবিতে রাঙামাটিতে স্মারকলিপি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. হাবিব উল্লাহ মারুফের বরাবর সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৬ অনুযায়ী গঠিত কমিশনে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধি নেই।

ফলে কমিশনের সিদ্ধান্ত একপেশে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৃহৎ বাঙালি জনগোষ্ঠীকে ভূমিহীন করে দিতে পারে বলে সংগঠনটি দাবি করে।

নেতৃবৃন্দ জানান, কমিশনের ৯ সদস্যের মধ্যে ৩ জন সার্কেল চিফ (তথাকথিত রাজা), ৩ জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ১ জন আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যানসহ মোট ৭ জনই উপজাতীয় সদস্য।

বাঙালি জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকা গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের পরিপন্থি বলেও তারা মন্তব্য করেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ না থাকায় এটি সংবিধানবিরোধী এবং নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন। পাশাপাশি সরকারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় দেওয়া ভূমি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

সম-অধিকার আন্দোলনের নেতারা বলেন,বর্তমান ভূমি কমিশন জনগণের আস্থা হারিয়েছে। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের জন্য হুমকি স্বরূপ।

তাই অবিলম্বে এই কমিশন বাতিল করে সকল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বমূলক একটি নতুন নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করতে হবে।”

স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন, জেলা সদস্য সচিব রকিব হোসেন, জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক সগির আহমদ, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল আবছার, জহিরুল ইসলাম, শাহীর উল হক, জেলা সদস্য ও পৌর কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ মোস্তফা, পৌর সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর বাদশা, লংগদু উপজেলা আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি ট্রাক-মিনি ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এটিএম হাসমত উল্লাহ, আসবাবপত্র সমিতির নেতা আনোয়ার হোসেন, আবুল বশর, টু-স্ট্রোক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল হকনুর হোসেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন,বর্তমান ভূমি কমিশন একটি পক্ষপাতদুষ্ট ও জনগণবিরোধী প্রতিষ্ঠান। এটি বিলুপ্ত করে ন্যায্য, নিরপেক্ষ ও সমন্বিত নতুন কমিশন গঠন ছাড়া পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”