থানচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ দোকান পুড়ে ছাই


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০৯:২৪ পিএম, ২০২৫-১০-২৬

থানচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ দোকান পুড়ে ছাই

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের বলিবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) গভীর রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাজারের একটি খাবারের হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলোতে। খবর পেয়ে থানচি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ততক্ষণে বাজারের ১৩টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি অংসিংম্যা মারমা বলেন, “রাত গভীর হওয়ায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে হৈচৈ শুনে দোকান থেকে বের হয়ে দেখি আগুন জ্বলছে।

টিটু দাশের রেস্টুরেন্ট ও জাফর আহমেদের সারের দোকানের মাঝখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

বাজারের পাশের পাড়ার বাসিন্দা মংলুং মারমা বলেন, “বাজারের দিক থেকে হৈচৈ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি আকাশে আগুনের শিখা। মোটরসাইকেল নিয়ে বাজারে গিয়ে দেখি আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আগুনের তীব্রতায় অনেক দোকান পুড়ে যায়।”

ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ব্যবসায়ী হ্লায়ইচিং মারমা বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্য আমার। ২০২৩ সালেও একবার রাতে আগুনে প্রায় ৫০টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছিল। এবারও সব পুড়ে গেল, কিছুই বাঁচাতে পারিনি।”

বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা বলেন, “আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, আগুনে মোট ১৩টি দোকান পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

থানচি ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার লিডার পিয়ার মোহাম্মদ বলেন, “রাত সোয়া দুইটার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, “উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি অবগত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, দেড় বছরের ব্যবধানে এটি বলিবাজারে তৃতীয় বড় অগ্নিকাণ্ড। ২০২৩ সালের মে মাসেও একই বাজারে ভয়াবহ আগুনে প্রায় ৫০টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছিল।