ইউপিডিএফের গুলিতে নিহত তিন পাহাড়ির বিচারের দাবিতে পিসিসিপির বিক্ষোভ


নাজিম আল হাসান    |    ০৩:১০ পিএম, ২০২৫-১০-২৯

ইউপিডিএফের গুলিতে নিহত তিন পাহাড়ির বিচারের দাবিতে পিসিসিপির বিক্ষোভ

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে বুধবার সকালে বনরূপা আলিফ মার্কেটের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পিসিসিপি নেতারা দাবি করেছেন— ইউপিডিএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আখ্র মারমা, আথুইপ্রু মারমা ও থৈইচিং মারমা—এই তিনজনের নৃশংস হত্যা তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ; সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন—অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, কাজী জালোয়া, হুমায়ুন কবির, নূর হোসেন, মো: আলমগীর হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম ও নয়ন বড়ুয়া প্রমুখ।

বক্তারা নিহত তিনজনের দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার দাবি করেন এবং নিয়ন্ত্রিত ও শান্তিপূর্ণ পাহাড়-সমতল এলাকায় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি জোরপূর্বক অনুরোধ করেন।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের মিথ্যা ধর্ষণ সংবাদ নিয়ে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা এবং ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির গুইমারা—রামসু বাজার সংঘর্ষের সময় ইউপিডিএফ ও তার সমর্থকরা সাধারণ মানুষকে উস্কে দিয়ে সংঘর্ষ বাড়ায়; এতে সেনাবাহিনীও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেমে পড়ে। তাদের বর্ণনায়, সংঘর্ষ চলাকালীন ইউপিডিএফ সদস্যরা পাহাড় থেকে অটোমেটিক অস্ত্রে গুলি চালিয়ে অনেক সাধারণ লোকসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজনকে লক্ষ্য করে আশ্রয় নেয় এবং ফলশ্রুতিতে ওই তিনজন নিহত হন।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র—যার লক্ষ্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল দেখানো এবং স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দাবিতে বৈদেশিক-আঞ্চলিক চাপ সৃষ্টি করা।

তারা ইউপিডিএফের মিথ্যা প্রচারণা ও সহিংস কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানান এবং সকল নাগরিককে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

পিসিসিপি ঘোষণা করেছে—রামসু বাজারের ঘটনায় জড়িত সকল ইউপিডিএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় না আনলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবে।

এছাড়া বক্তারা ৩০ অক্টোবর ইউপিডিএফ ঘোষিত প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এবং কোনো провোকেশন বা অস্থিতিশীলতার অংশ না হওয়ার অনুরোধ করেন।

বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে দাবি করেন — দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

তারা বলেন, “একটি সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবহেলাভিত্তিক অপপ্রচারের ফলে সাধারণ পাহাড়ি জনগণকে বিপদের মুখে ফেলা অনিহার্য।”

পিসিসিপি নেতারা সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন এবং আন্দোলনের আওয়াজ অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেন। তারা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের অখণ্ডতা ও পার্বত্য অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।