বাঘাইছড়িতে এম এন লারমা’র ভাস্কর্য উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


ওমর ফারুক সুমন    |    ১০:৩৯ পিএম, ২০২৫-১১-০৯

বাঘাইছড়িতে এম এন লারমা’র ভাস্কর্য উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা)-এর ভাস্কর্য উন্মোচন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৯ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ১০ ঘটিকায় উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের শিজকমুখ এলাকার শিজক কলেজের সম্মুখে নবনির্মিত এম এন লারমা’র ভাস্কর্য উন্মোচন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে “ভাস্কর্য নির্মাণ কমিটি–২০২৫”।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) বাঘাইছড়ি উপজেলা আঞ্চলিক কমিটির পরিচালক পুলক জ্যোতি চাকমা
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার
প্রধান আলোচক ও ভাস্কর্য উন্মোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি চিবরণ চাকমা
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভাস্কর্য নির্মাণ কমিটির সদস্য সচিব ত্রিদিপ চাকমা (দীপ বাবু)

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য দেব প্রসাদ দেওয়ান, শিজক কলেজের অধ্যক্ষ সুভাষ দত্ত চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শান্তনা চাকমা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, হেডম্যান–কার্বারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, জনসংহতি সমিতির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্বাগত বক্তব্যে ত্রিদিপ চাকমা ভাস্কর্য নির্মাণের পেছনের উদ্যোগ, ইতিহাস ও নির্মাণে যুক্ত সকল সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এম এন লারমা ছিলেন জুম্ম জাতির মুক্তির প্রতীক। তাঁর আদর্শ ও ত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস।”

বক্তারা তাঁদের আলোচনায় বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ছাত্রজীবন থেকেই সংগ্রামী ও নেতৃত্বগুণে উজ্জ্বল ছিলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি পাহাড়ি জনগণের অধিকার আদায়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

তিনি ছিলেন জুম্ম জাতির মহান বিপ্লবী নেতা, যাঁর জীবন ও দর্শন থেকে বর্তমান প্রজন্মের শেখার আছে অনেক কিছু। বক্তারা এম এন লারমার জীবনী সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে বাঘাইছড়িতে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঊষাতন তালুকদার বলেন,জুম্ম জাতির অগ্রদূত এম এন লারমা ছিলেন একজন ত্যাগী নেতা, সত্য ও ন্যায়ের পথের যাত্রী।

তিনি আমাদের দেখিয়ে গেছেন কীভাবে সাহসের সঙ্গে নিজের অধিকার আদায়ের কথা বলতে হয়। আজ শিজক কলেজের মতো একটি পবিত্র শিক্ষা প্রাঙ্গণের পাশে আরেকটি পবিত্র স্থাপনা—এই ভাস্কর্য—নির্মিত হওয়ায় আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।”

তিনি আরও বলেন,এম এন লারমার মৃত্যু জুম্ম জাতির অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলেই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রসর হতে পারবো।

যেমনভাবে আমরা একতাবদ্ধ হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদন করতে পেরেছি, তেমনি ঐক্যবদ্ধ থাকলে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নও সম্ভব।”

বক্তারা এম এন লারমার জীবন ও অবদানকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং জুম্ম জাতির ঐক্য, শান্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার অনুরোধ করেন।

আলোচনা সভার শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও স্থানীয় জনসাধারণ নবনির্মিত এম এন লারমার ভাস্কর্যের পাদদেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এসময় অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ দেশীয় বাদ্যযন্ত্র ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।