চকরিয়ায় তরুণ ভোটারদের জন্য যুব ওরিয়েন্টেশন ও মক ভোটিং


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৮:২৭ পিএম, ২০২৫-১২-১৫

চকরিয়ায় তরুণ ভোটারদের জন্য যুব ওরিয়েন্টেশন ও মক ভোটিং

প্রথমবার ভোটার, নতুন ভোটার এবং যুব সমাজকে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদার করার লক্ষ্যে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় “যুব ওরিয়েন্টেশন ও মক ভোটিং অনুশীলন” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবসহ দেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের সাহসী ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বক্তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে তরুণ সমাজকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা আইএফইএস-এর সহযোগিতায় “ইনক্লুসিভ ভোটার এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস” প্রকল্পের আওতায় গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ভার্চু স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ভার্চু স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন কাদের আবদুল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুব ওরিয়েন্টেশন সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইএসডিই বাংলাদেশ-এর কর্মসূচি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইএসডিই চকরিয়া উপজেলা ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন ভার্চু স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন ও মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে এলাকার ৭০ জনেরও বেশি তরুণ-তরুণী ও স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

যুব ওরিয়েন্টেশন সভায় ভোটার হিসেবে নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ভোটদান প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব এবং নির্বাচনকালীন ভ্রান্ত তথ্য (মিসইনফরমেশন) থেকে সচেতন থাকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এছাড়া অনুশীলনমূলক মক ভোটিং সেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ব্যালট পেপার চিহ্নিতকরণ, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের নিয়ম, ভোট প্রদান এবং ব্যালট বাক্সে ভোট প্রদানসহ পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া হাতে-কলমে অনুশীলনের সুযোগ পান।

এতে প্রথমবার ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং ভোটদানে আগ্রহ তৈরি হয়।

বক্তারা বলেন, যুবসমাজই একটি দেশের গণতন্ত্রের মূল শক্তি। সচেতন ও দায়িত্বশীল ভোটার তৈরি করা গেলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত ভোটাধিকার প্রয়োগের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় আরও জানানো হয়, আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সকল নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।