রাবিপ্রবি’তে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘মহান বিজয় দিবস-২০২৫’ উদযাপন


আলমগীর মানিক    |    ০৯:৪৬ পিএম, ২০২৫-১২-১৬

রাবিপ্রবি’তে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘মহান বিজয় দিবস-২০২৫’ উদযাপন

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবনসমূহ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।

সকাল ৯টা ০০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান মহোদয়ের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসের বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে জাতির সূর্যসন্তান বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা ২০২৪-এর বাংলাদেশে প্রত্যাশা করছি—আমরা আর কখনো ফ্যাসিবাদের চর্চা করব না।

১৯৪৭ সালকে স্মরণ করা প্রয়োজন, কারণ ১৯৪৭ না হলে ১৯৭১-এ পৌঁছানো সম্ভব হতো না। ১৯৫২ ও ১৯৭১—প্রতিটি অধ্যায়ের আলাদা মর্যাদা ও তাৎপর্য রয়েছে।”
তিনি বিভ্রান্তিমূলক আলোচনা ও ভ্রান্ত তথ্য প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এরপর মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন।

মহান বিজয় দিবস-২০২৫: সুযোগ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ গঠনে আত্মত্যাগকারী সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরাই আগামীর বাংলাদেশ। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে যোগ্য, সৎ ও নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি প্রলোভনমুক্ত থেকে সমাজের জন্য ইতিবাচক নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান জানান এবং সততার বিষয়ে কোনো আপস না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই’২৪-এ যে ঐক্য ও চেতনা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, সে ঐক্যের মধ্যে বর্তমানে যে দূরত্ব দেখা যাচ্ছে, তা কাম্য নয়। তিনি ’৪৭ থেকে ’৭১ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জুলাই’২৪ পূর্ববর্তী সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে তিনি পোশাক শিল্প, আধুনিক কৃষি, পর্যটন, প্রবাসী আয়, প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পসহ বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন।

তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বিনিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে পৃষ্ঠপোষকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, “সকল স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে কাজ করতে পারলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল ক্ষেত্রে সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এছাড়াও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনিক ভবনসহ সকল আবাসিক হলে আলোকসজ্জা করা হয়।

দিবসটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টা ০০ মিনিটে একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে বার্ষিক অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৫ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।

বার্ষিক অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় দৌড় (১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪০০ মিটার), চাকতি নিক্ষেপ, গোলক নিক্ষেপ, বর্শা নিক্ষেপ, উচ্চ লাফ, লং জাম্প, দাবা, লুডু, ক্যারম ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়াও শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, প্রক্টর, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (অ.দা.)সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।