শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিস্থলে বিজিবির শ্রদ্ধা


আলমগীর মানিক    |    ০১:২৭ এএম, ২০২৫-১২-১৭

শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিস্থলে বিজিবির শ্রদ্ধা

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ সময় বিজিবির রাঙামাটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আহসান হাবীব শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর চৌকস ও সুসজ্জিত গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিউগলের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে উপস্থিত সবাই গভীর শ্রদ্ধাভরে জাতির এই সূর্যসন্তানকে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আহসান হাবীব বলেন, “১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস—বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য, গৌরবোজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় দিন। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দিনে আমরা পেয়েছি আমাদের লাল-সবুজের প্রিয় পতাকা।” তিনি মহান বিজয় দিবসে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদকে, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পরাধীনতার শিকল ছিন্ন করে বাঙালি জাতি পেয়েছে স্বাধীনতা।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গর্বিত মুক্তিসেনারা হাজার বছরের কাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন।

বিজয়ের এই দিনে তিনি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন বিজিবির বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত ৮ জন বীর উত্তম, ৩২ জন বীর বিক্রম, ৭৭ জন বীর প্রতীক এবং আত্মোৎসর্গকারী ৮১৭ জন বীর শহীদকে।

মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল পার্বত্য রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট এলাকার চেংড়ী খালে প্রতিরক্ষা অবস্থানে অবস্থান করছিলেন।

এ সময় পাক হানাদার বাহিনীর সৈন্য বহনকারী দুটি লঞ্চ ও একটি স্পিডবোট তাঁর মেশিনগানের গুলিতে নদীতে ডুবিয়ে দেন।

তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ সাহসিকতার ফলে পাক হানাদার বাহিনী পশ্চাদপসরণে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে পাক বাহিনীর মর্টারের আঘাতে এই স্থানেই তিনি বীরত্বের সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন।

তাঁর এই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা।

বাংলাদেশ সরকার তাঁর অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী, বিজিবির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, সিগন্যালস্ সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।