শীতার্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের


গোলামুর রহমান-লংগদু    |    ১১:১২ পিএম, ২০২৫-১২-২৯

শীতার্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ঘেরা লংগদু উপজেলায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিললেও সোমবার সারাদিন রোদের দেখা মিলেনি।

দিনভর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে চারপাশ, আর কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার দিনমজুর, কৃষক ও জেলেরা।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) লংগদু উপজেলায় তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখানকার খেটে খাওয়া মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূর্য না ওঠায় এবং কনকনে ঠান্ডার কারণে সকালে কাজে বের হতে পারছেন না নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে কাপ্তাই লেকের ওপর নির্ভরশীল জেলেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

ঘন কুয়াশায় নৌযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তেমনি প্রচণ্ড ঠান্ডায় লেকের পানিতে জাল ফেলা প্রায় অসম্ভব। অনেক জেলেই গত কয়েকদিন ধরেই মাছ ধরতে নামতে পারেননি।

কৃষি খাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। আমন পরবর্তী কাজ এবং শীতকালীন শাকসবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকা উচিত কৃষকরা, কিন্তু হাড়কাঁপানো শীতে মাঠে নামতে পারছেন না। প্রচণ্ড ঠান্ডায় বোরো ধানের চারা ও মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলার এক দিনমজুর বলেন, "সকাল থেকে সূর্যের দেখা নাই, তাই আজ কাজে বের হয়নি। আমাদের জীবন হলো একদিন অন্যর কাজ করে কিছু টাকা পাওয়া, সেই টাকা দিয়ে আবার নিজের চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করি।

এত ঠান্ডা থাকলে আমাদের দৈনন্দিন আয়ের চাকা বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও এবার লেকের পানি কমছে না, সব দিকে যেন বিপদ জেঁকে বসছে।"

স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। তীব্র শীতে শিশুদের নিউমোনিয়া এবং বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।

লংগদু সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিয়ত ঠান্ডাজনিত রুগী, বিশেষ করে শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে, এবং গত কয়েকদিনের তুলনায় রুগীর সংখ্যা বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর শীত আসে, কিন্তু এ বছরের টানা কুয়াশা ও তীব্র শীতে সবাই দিশাহারা। শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, "উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবারও শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। লংগদু জোনের পক্ষ থেকেও শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে।"