ই-সিগারেটসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৬:৫৮ পিএম, ২০২৬-০১-০১

ই-সিগারেটসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এ অধ্যাদেশ কার্যকর হয়। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নতুন অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো জনগণকে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

এতে বিড়ি উৎপাদনসংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একটি সমন্বিত আইন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে এবং ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকার প্রয়োজনে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নতুন কোনো পণ্যকেও তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা আগের ৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ।

বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তাও বন্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ই-সিগারেট ও অন্যান্য উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এসব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিড়ি উৎপাদন (নিষিদ্ধ) অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ বাতিল করা হয়েছে।

তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক উপাদান মেশানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গা রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংবলিত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জরিমানা ও কারাদণ্ডের মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধানও সংযোজন করা হয়েছে।

প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।