এনসিপি দলে কোটিপতি চারজন


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ১১:৪১ এএম, ২০২৬-০১-০৩

 এনসিপি দলে কোটিপতি চারজন

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৪৪ জন।

তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটগত সমঝোতার কারণে এই সংখ্যা কমতে পারে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এনসিপির এই ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র চারজন কোটিপতি।

বাকি প্রার্থীদের বড় একটি অংশের আয় ও সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

হলফনামা অনুযায়ী এনসিপির কোটিপতি প্রার্থীরা হলেন—ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী নাবিলা তাহসিন, সিলেট-৪ আসনের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আইটি ডেভেলপার রাশেল উল আলম, নাটোর-৩ আসনের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এস এম জার্জিস কাদের এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী মাহবুব আলম। মাহবুব আলম দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সদ্য সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই।

এই চারজনের মধ্যে সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে নাবিলা তাহসিন। তাঁর ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য তিন কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ এক কোটি ৬২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

নগদ ও ব্যাংকে জমা রয়েছে ৬৭ লাখ টাকা। তাঁর স্বামী প্রকৌশলী ইমদাদুল হকের নামেও উল্লেখযোগ্য অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে।

অন্যদিকে, এনসিপির অনেক প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা বেশ সীমিত। মৌলভীবাজার-৪ আসনের প্রার্থী প্রীতম দাশের মাসিক আয় মাত্র ছয় হাজার টাকা।

নরসিংদী-২ আসনে প্রার্থী দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার (তুষার) কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদের মালিক নন।

সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী রাশেল উল আলমের ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য দুই কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি।

তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ৩৯ লাখ টাকা। দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা।

নাটোর-৩ আসনের প্রার্থী এস এম জার্জিস কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মূল্য এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং নগদ অর্থের পরিমাণ এক কোটি ১২ লাখ টাকার বেশি।

নোয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার বার্ষিক আয়ের দিক থেকে এনসিপির শীর্ষে।

শিক্ষা ও গবেষণা খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫০ লাখ টাকা। তাঁর স্বর্ণালংকার রয়েছে ২৫ ভরি, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা।

দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মোট ৩২ লাখ টাকার সম্পদের মালিক। তবে আয় বিবরণীতে তিনি এগিয়ে—বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া বেতনও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তাঁর নামে তিন লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বার্ষিক আয় নয় লাখ টাকা এবং মোট সম্পদ প্রায় ৩৪ লাখ টাকা।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী ড. আতিক মুজাহিদের গাড়ি-বাড়ি নেই; তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ সাত লাখ টাকার কিছু বেশি

। দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনেরও কোনো গাড়ি বা বাড়ি নেই।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, অনেক প্রার্থীর আয় তিন থেকে ছয় লাখ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠিত হয়।

এটিই দলটির প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে ৩০টি আসনে ছাড় পাওয়ায় এনসিপির অন্তত ১৪ জন প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে হলফনামার তথ্যে স্পষ্ট, নবগঠিত এই রাজনৈতিক দলে ধনী ও স্বল্প আয়ের প্রার্থীর মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে, যা নির্বাচনী রাজনীতিতে এনসিপির সামাজিক ও অর্থনৈতিক চরিত্রকে নতুনভাবে তুলে ধরছে।