রাঙামাটি থেকে বসতঘরে অগ্নিসংযোগের প্রধান আসামি গ্রেফতার 


আলমগীর মানিক    |    ০১:৩৭ এএম, ২০২৬-০১-০৪

রাঙামাটি থেকে বসতঘরে অগ্নিসংযোগের প্রধান আসামি গ্রেফতার 

আলমগীর মানিক 


চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় গভীর রাতে একাধিক বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মোঃ মনির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ টিম। শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কলেজ গেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় সংঘটিত অগ্নিসংযোগের প্রতিটি ঘটনার স্থান থেকে বিশেষ ধরনের উসকানিমূলক ব্যানার উদ্ধার করা হয়। এসব ব্যানার ANCOR ব্র্যান্ডের মটর ভূষি ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ছিল। ব্যানারগুলোতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টে উসকানিমূলক বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও একাধিক মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল।

ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তার বসতঘর তল্লাশি করে ANCOR ব্র্যান্ডের মটর ভূষির তিনটি খালি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত ব্যানারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন স্বীকার করেন, ব্যানারে উল্লেখিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তার পূর্বশত্রুতা ছিল। তিনি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কেও পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত মনির হোসেন আগে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় বসবাস করতেন এবং পরবর্তীতে রাঙামাটির কলেজ গেট এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। তার বিরুদ্ধে রাঙামাটির লংগদু ও চট্টগ্রামের রাউজান থানায় চুরি ও মাদকসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি চুরি মামলায় তিনি ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

প্রাথমিক তদন্ত, উদ্ধারকৃত আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে মানুষের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং শত্রুপক্ষের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টাও করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।