রাবিপ্রবিতে ‘জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স–২০২৬’ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত


আলমগীর মানিক    |    ১২:০৯ এএম, ২০২৬-০১-১৫

রাবিপ্রবিতে ‘জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স–২০২৬’ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স–২০২৬’

এ উপলক্ষে আজ বুধবার সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও রাবিপ্রবির মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান সম্মেলনের সার্বিক বিষয়াবলি তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, প্রক্টর ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদ্দাম হোসেন এবং ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কনফারেন্সের সদস্য-সচিব জি এম সেলিম আহমেদ।

এছাড়া রাঙ্গামাটির প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে, প্রেসক্লাব সভাপতি আনোয়ার আল হকসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর জানান, আগামী ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী এই জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে।

এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭০ জনের বেশি গবেষক তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।

কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে ১৬ জানুয়ারি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান।

“আগামী দিনের পর্যটন: প্রকৃতির নতুন আকর্ষণ অনুসন্ধান”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কনফারেন্সের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিটাইম ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম।

কনফারেন্সের প্রথম দিনে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্সের সহ-সভাপতি মোসা. হাবিবা। সমাপনী বক্তব্য দেবেন কনফারেন্সের সদস্য-সচিব জি এম সেলিম আহমেদ।

দ্বিতীয় দিন ১৭ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে ক্যাম্পাসে থাকবে মূল বক্তব্য, মৌখিক উপস্থাপনা ও পোস্টার উপস্থাপনা। বিকাল ৩টা ৪৬ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, রাঙ্গামাটিতে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যটন খাতের অংশীজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে।

এই কনফারেন্সের মাধ্যমে একাডেমিক গবেষণার ধারণা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে এবং স্থানীয় পর্যটন শিল্পের ব্র্যান্ডিং ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

তিনি আরও জানান, কনফারেন্স শেষে পর্যটন শিল্প উন্নয়নে একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করে তা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরা হবে।

পর্যটন খাতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, সেবাদানের মানসিকতা গড়ে তোলা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে রাঙ্গামাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ভাইস-চ্যান্সেলর আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই বিদেশি সংস্থার অনুদানে রাবিপ্রবিতে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র (ট্যুরিজম হাব) নির্মাণ সম্ভব হবে।

সাংবাদিকরা তাঁদের বক্তব্যে পাহাড়-লেক সমৃদ্ধ রাঙ্গামাটির পর্যটন সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে এই কনফারেন্স আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

তাঁরা স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্ত করে সীমান্তবর্তী ঠেগামুখ স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ভাইস-চ্যান্সেলর সাংবাদিকদের প্রস্তাবনায় ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, শহরের প্রতিটি প্রান্তকে পর্যটনবান্ধব করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে, যেন পর্যটকরা বুঝতে পারেন—এই শহর তাঁদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

তিনি কনফারেন্সের দিনগুলোতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য স্টল দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকেও ভবিষ্যতে একটি পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান।

শেষে তিনি কনফারেন্সের মিডিয়া অংশীদার ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সাংবাদিককে ধন্যবাদ জানান।