রাবিপ্রবি’তে দুই দিনব্যাপী জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স ২০২৬-এর উদ্বোধন


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ১১:৩১ পিএম, ২০২৬-০১-১৬

রাবিপ্রবি’তে দুই দিনব্যাপী জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স ২০২৬-এর উদ্বোধন

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান।

তিনি বলেন, এই কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি পর্যটন গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দুই দিনব্যাপী কনফারেন্সের প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রাবিপ্রবির ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন। তিনি বলেন, এই আয়োজন পর্যটন খাতে গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।

তিনি বলেন, এই কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটিতে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবী ও একাডেমিক ব্যক্তিত্বদের জন্য একই ছাদের নিচে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

কনফারেন্সের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সংযোগ বাড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্থপতি, নকশাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ, বন সংরক্ষক, সাংবাদিক—সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পর্যটন শিল্প এগিয়ে যেতে পারে।

পর্যটন এমন একটি শিল্প যা সবাইকে একত্রিত করে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি রাঙ্গামাটিতে তাঁর স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণা করেন এবং এই অঞ্চলের পর্যটনের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে তিনি রাঙ্গামাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

রাবিপ্রবির মাননীয় উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাবিপ্রবি ক্যাম্পাস পর্যটন নিয়ে কাজ করা গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের একটি মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাহাড় ও লেক সমৃদ্ধ রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে দেশের পর্যটনের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি কনফারেন্স সফল করতে সহযোগিতা করার জন্য সকল গণমাধ্যমকর্মী, পৃষ্ঠপোষক, গবেষক ও অংশীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর।

তিনি রাঙ্গামাটিকে পর্যটন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এখানে পরিবেশবান্ধব পর্যটন, সাংস্কৃতিক পর্যটন এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

পাশাপাশি তিনি এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন।

“আগামী দিনের পর্যটন: প্রকৃতির নতুন সম্ভাবনার খোঁজে”—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত কনফারেন্সের মূল অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. মো. সাইফুল ইসলাম।

তাঁদের উপস্থাপিত দুটি গবেষণা প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল—
১) বাংলাদেশে পর্যটন উন্নয়ন পুনর্বিবেচনা: টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য নীতিগত অগ্রাধিকার ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা
২) আগামী দিনের পর্যটন গবেষণা: টেকসই সূচক ব্যবস্থায় কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন গবেষণা পদ্ধতির প্রবর্তন

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্সের সহ-সভাপতি মোছা. হাবিবা।

সমাপনী বক্তব্য রাখেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কনফারেন্সের সদস্য-সচিব জি এম সেলিম আহমেদ।
কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের প্রভাষক মো. নাফিজ মন্ডল ও ফাহিম হোসেন।

কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিন শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে মূল কার্যক্রম। এদিন থাকছে মূল বক্তৃতা, মৌখিক উপস্থাপনা ও পোস্টার উপস্থাপনা। বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান।

দুই দিনব্যাপী এই কনফারেন্সে পর্যটন শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, নীতিনির্ধারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পর্যটনে বৃহৎ তথ্যের ব্যবহার, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী ও হাওড় অঞ্চল রক্ষা, পর্যটনে কমিউনিটি ও নারীদের সম্পৃক্তকরণ, স্মার্ট পর্যটন ব্যবস্থা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।