দুর্নীতিবাজকে রেজিস্ট্রার নিয়োগের প্রতিবাদে রাবিপ্রবি’তে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন
আলমগীর মানিক |
০৫:১৪ পিএম, ২০২৬-০২-০৩
আলমগীর মানিক
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) বিতর্কিত ও তদন্তাধীন ব্যক্তি মশিউর রহমানকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভে অংশ নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রতীকীভাবে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করে বিতর্কিত এই নিয়োগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে; “দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে, লাল কার্ড লাল কার্ড”, “প্রতারকের বিরুদ্ধে, লাল কার্ড লাল কার্ড”,“দুর্নীতিবাজের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না”, “মশিউরের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না” এমন নানা জ্বালাময়ী স্লোগান।
জিশান আহম্মেদের সঞ্চালনায় মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী শামস শাহরিয়ার, মোহাম্মদ সাঈদ ও রাকিবুল ইসলাম।
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, “যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বয়ং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, তাকে রাবিপ্রবির মতো একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাবিপ্রবি কোনো দুর্নীতিবাজের পুনর্বাসন কেন্দ্র হতে পারে না।”
বিক্ষোভকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। আন্দোলনের কারণে ভিসি অফিস সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের যাতায়াত সীমিত হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারার অভিযোগ করেন। জানাগেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয় এবং প্রক্টরিয়াল বডি সার্বক্ষণিক তৎপর থাকে।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টর আলোচনায় বসেন। আলোচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো দুর্নীতিবাজ বা বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রশাসনের মৌখিক আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেন। তবে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই আশ্বাস বাস্তবে প্রতিফলিত না হয় এবং বিতর্কিত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি, এমনকি আমরণ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
এরআগেও রাঙামাটির রাবিপ্রবিতে জাল সনদ দিয়ে চাকুরি নেওয়া এক শিক্ষককে বহিস্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন রাবিপ্রবিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক প্রশাসনের দাবিকে নতুন করে সামনে এনেছে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।