১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিলসহ ৭ দফা দাবিতে পিসিএনপি’র স্মারকলিপি


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১১:০৬ পিএম, ২০২৬-০৩-০১

১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিলসহ ৭ দফা দাবিতে পিসিএনপি’র স্মারকলিপি

রাঙামাটি, ১ মার্চ: পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিল, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদে নির্বাচন আয়োজনসহ সাত দফা দাবিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

রবিবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংগঠনের নেতারা এ স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মহাসচিব শাব্বির আহম্মেদ, রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, পিসিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

ফলে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ বাড়ছে বলে দাবি করেন তারা।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব প্রদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।

এছাড়া চেয়ারম্যান পদে বাঙালি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও স্মারকলিপিতে উত্থাপন করা হয়।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, পাহাড়ে সশস্ত্র বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাই এসব আইন ও চুক্তি বাতিল করে সমতলের জেলার মতো সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনের দাবি জানায় সংগঠনটি।

এছাড়া ভূমি কমিশন আইন সংশোধন, সকল সম্প্রদায়ের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা, বাজারফান্ড এলাকায় হাউজ লোন চালু রাখা এবং শিক্ষা, চাকরি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার দাবিও স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান সংগঠনের নেতারা।