পর্যটন শহর রাঙামাটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০৬:০৭ পিএম, ২০২৬-০৩-২৫

পর্যটন শহর রাঙামাটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে তীব্র আকার ধারণ করেছে জ্বালানি তেলের সংকট। 

বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) ভোর রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার । 

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যেসব পাম্প সীমিত আকারে খোলা রয়েছে, সেগুলোতেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অসংখ্য যানবাহন। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি স্টেশন থেকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ওই একটি স্টেশনেই চাপ বেড়ে গেছে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সিএনজি চালক মো. খোকন মিয়া বলেন,“সারাদিন সিএনজি চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। কিন্তু তেলের ও গ্যাসের জন্য যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে গাড়ি চালানোর সময়ই থাকে না। এতে আয় কমে যাচ্ছে, সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।”

একজন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজান বলেন,“আমি সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখন প্রায় দুপুর ২টা বাজে। কিন্তু এখনো তেল পাইনি। পাম্পের সাইনবোর্ডে লেখা আছে বোতল বা ট্যাংকিতে তেল দেওয়া হবে না, অথচ অনেককে বোতল ও ট্যাংকিতে বেশি পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ আরও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”

রাঙামাটি ঘুরতে আসা এক পর্যটক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে রাঙামাটি বেড়াতে এসেছি। কিন্তু তেলের সংকটে পড়ে এখন বিপাকে পড়েছি। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খুব অল্প তেল পেয়েছি। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পর্যটকদের জন্যও বড় সমস্যা তৈরি হবে।”

এদিকে একটি ফিলিং স্টেশনের মালিক জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন অল্প পরিমাণ তেল এনে সীমিতভাবে ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে রাঙামাটিতে যানবাহন চলাচল, পর্যটন খাত এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।