রাঙামাটিতে হাতির আক্রমণে নিহত নারীর পরিবার পেল সরকারি সহায়তা


মেহেদী হাসান    |    ০৪:১৯ পিএম, ২০২৬-০৪-০২

রাঙামাটিতে হাতির আক্রমণে নিহত নারীর পরিবার পেল সরকারি সহায়তা

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে নিহত এক নারীর পরিবারের হাতে সরকারি ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিয়েছে ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে রাঙামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিহত মেশি মারমার স্বামী পাইঅং মারমার হাতে ৩ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন বিভাগীয় উপ-বন সংরক্ষক মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপ-বন সংরক্ষক মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া বলেন, বন্য প্রাণী লোকালয়ে প্রবেশ করলেও তাদের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বন্য প্রাণীকে তার স্বাভাবিক পরিবেশে থাকতে দিলে মানুষের সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনা কমে যায়।

তিনি আরও বলেন, মানুষ যদি বন্য প্রাণীকে উত্যক্ত বা আক্রমণ না করে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাণীরাও আক্রমণ করে না। তাই সবাইকে বন্য প্রাণী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জানান, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী বন্য প্রাণীর আক্রমণে কেউ নিহত হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন সাপেক্ষে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

এছাড়া গুরুতর আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং বনাঞ্চলের বাইরে ফসল, ঘরবাড়ি বা অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হয়।

রাঙামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান জানান, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য নয়।

যেমন—সরকারি বনাঞ্চলে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে কেউ আক্রান্ত হলে, ইচ্ছাকৃতভাবে বন্য প্রাণীকে আঘাত করার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে, অবৈধ শিকারের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হলে, বিদেশি নাগরিক সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ আক্রান্ত হলে অথবা সাফারি পার্কে দায়িত্ব পালনরত ঝুঁকি ভাতা প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলার কাশখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর গফুরসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।