আন্দোলন শুরু, সফলতার পথে এগিয়ে নিতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৭:০৫ পিএম, ২০২৬-০৪-১৩

আন্দোলন শুরু, সফলতার পথে এগিয়ে নিতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে এই আন্দোলনকে সফলতার চূড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সংকটের মুখে দেশ” শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের নীতিগত অসঙ্গতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এক সময় গণভোটকে হারাম বলা হয়, আবার অন্য সময় সেটিকে আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়—এ ধরনের দ্বৈত অবস্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

আমরা সংসদে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। আমাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি। সুযোগ থাকুক বা না থাকুক, জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আমরা কখনোই নীরব থাকিনি।

জনগণ আমাদের সংসদে পাঠিয়েছে তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য, নীরব দর্শক হয়ে থাকার জন্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সংসদে যাওয়ার আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম, ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা সেখানে যাচ্ছি না।

অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকলেও আমরা সেগুলো স্বেচ্ছায় গ্রহণ করব না। শুধুমাত্র যেগুলো একান্ত প্রয়োজন, সেগুলোই গ্রহণ করব। কোনো অবৈধ সুবিধার দিকে আমাদের দৃষ্টি বা হাত বাড়বে না।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই গণআন্দোলন কেবল শিক্ষিত ছাত্রসমাজ বা রাজনীতিবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় ১,৪০০ শহীদের মধ্যে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ১,২০০ পরিবারের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি।

এদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশই শ্রমজীবী মানুষ। তারা কেবল কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের আশায় রাজপথে নেমেছিল।”

বর্তমান সংসদের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই সংসদ মূলত জুলাইয়ের ফসল। জুলাই না থাকলে আমরাও থাকতাম না, সরকারও থাকত না, বিরোধীদলও থাকত না।

তাই জুলাইয়ের চেতনাকে উপেক্ষা করে কেউই টিকে থাকতে পারবে না। গণভোটের রায়ের মাধ্যমেই সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটবে। প্রয়োজনে আবারও ত্যাগ স্বীকার করতে আমরা প্রস্তুত।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে চলমান আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সফল হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় হবে।