বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তি নিয়ে আইনি নোটিশ


সোহেল রানা    |    ০১:২৯ এএম, ২০২৬-০৪-২৪

বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তি নিয়ে আইনি নোটিশ

রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি সভা ছাড়াই বিলুপ্ত করার অভিযোগে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একই কমিটির এক সদস্যের পক্ষ থেকে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থা ও বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক ত্রিদিব বড়ুয়া টিপু এবং সদস্য সচিব ধীমান বড়ুয়াকে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। সংগঠনের ডেকোরাম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সদস্য শ্যামল চৌধুরীর পক্ষে রাঙামাটি জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী মঈনুল ইসলাম এ নোটিশ প্রেরণ করেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রাঙামাটি শহরে বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী কমিটির বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ লাখ টাকার অধিক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই কমিটি বাতিল করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

উক্ত আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব ছিল সাধারণ পরিষদের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা, সাধারণ সভার মাধ্যমে নতুন পরিচালনা কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা এবং বিগত ২০ মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আহ্বায়ক ত্রিদিব বড়ুয়া টিপু ও সদস্য সচিব ধীমান বড়ুয়া এসব দায়িত্ব পালন না করে গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আহ্বায়ক কমিটির সভা কিংবা সাধারণ সভা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

নোটিশে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা উভয় প্রতিষ্ঠান তথা রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার স্বার্থবিরোধী কাজ করেছেন এবং সংগঠনের ডেকোরাম লঙ্ঘন করেছেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আইনি নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন আহ্বায়ক ত্রিদিব বড়ুয়া টিপু ও সদস্য সচিব ধীমান বড়ুয়া। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট কাজী মঈনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আমার নেরেস্তায় নোটিশের একটি কপি সংরক্ষিত রয়েছে।”