ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০২:২২ পিএম, ২০২৬-০৪-২৫

ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

নিহত শিক্ষার্থী হলেন জামিল আহমেদ লিমন (২৭)। তবে একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির (২৭) এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকায় হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অবশিষ্টাংশ জামিল লিমনের বলে শনাক্ত করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহ (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এর পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। জামিল ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে এবং নাহিদা বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগে অধ্যয়ন করছিলেন।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ট্যাম্পায় নিজ বাসভবনে জামিল লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায়। একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে শেষবার দেখা যায় নাহিদা বৃষ্টিকে। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

ঘটনার তদন্তে শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছাকাছি লেক ফরেস্ট নামের একটি আবাসিক এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই এলাকায় সোয়াট টিম অভিযান চালায় এবং পরে সন্দেহভাজন রুমমেটকে আটক করা হয়। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, এফবিআই, স্থানীয় পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে মিয়ামি কনস্যুলেটও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কিনা এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি করেছে।