একনেক সভায় ১৩,৪৪৫ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন, অগ্রাধিকার পার্বত্য সীমান্ত সড়ক


আলমগীর মানিক    |    ০২:৫০ পিএম, ২০২৬-০৪-২৭

একনেক সভায় ১৩,৪৪৫ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন, অগ্রাধিকার পার্বত্য সীমান্ত সড়ক

রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় মোট ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে—

  • সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন: ৮,০৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা
  • প্রকল্প ঋণ: ৫,৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা
  • সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন: ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা

এই অর্থায়ন কাঠামো দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তার সমন্বিত ব্যবহারের প্রতিফলন।

 অনুমোদিত ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—

  • নতুন প্রকল্প: ৫টি
  • সংশোধিত প্রকল্প: ৫টি

মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প: ৪টি             

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • নগর জনসংখ্যার জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প
  • কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (সংশোধিত)
  • পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প (সংশোধিত)
  • জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প
  • চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য আবাসন নির্মাণ
  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এর অবকাঠামো উন্নয়ন
  • রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প
  • ময়মনসিংহ বিভাগে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ
  • পার্বত্য এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)

বিশেষ করে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া বরিশাল, ভোলা ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের সড়ক উন্নয়ন, নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং রেলপথ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ পুনর্বাসন এবং মধুখালী-কামারখালী-মাগুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন—

  • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
  • অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ
  • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, নগর সেবা, স্বাস্থ্যখাত এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।

একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের সংযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে।