অসুস্থ নানা-নানি ও প্রতিবন্ধী নাতির মানবেতর জীবন


বিলাইছড়ি প্রতিনিধি    |    ১০:১৫ পিএম, ২০২৬-০৫-০৬

অসুস্থ নানা-নানি ও প্রতিবন্ধী নাতির মানবেতর জীবন

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার গাছকাটাছড়ি গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী ৯ বছর বয়সী মো. রাহিদুল ইসলামের জীবন যেন এক গভীর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।

জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী রাহিদুল জন্মের পরপরই তার মা আকলিমা বেগমকে হারায়। অন্যদিকে, তার পিতা মো. নুরুল কবির পলাতক থাকায় শিশুটি পিতৃস্নেহ ও মাতৃমমতা—উভয় থেকেই বঞ্চিত। বর্তমানে সে তার বৃদ্ধ নানা মো. তোবারক মোল্লা (৯০) ও নানি মোছা. জাহানারা বেগমের (৮০) আশ্রয়ে বড় হচ্ছে।

পরিবারটির বসবাসের একমাত্র ঘরটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি নড়বড়ে এই ঘরটি ঝড়-বৃষ্টির সময় কোনো নিরাপত্তা দিতে পারে না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পরিবারের তিনজন সদস্যই—নানা, নানি ও শিশু রাহিদুল—শারীরিকভাবে অসুস্থ।

তাদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা এই দরিদ্র পরিবারের জন্য এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি সপ্তাহে নানার ওষুধের জন্য প্রায় ৪,৫০০ টাকা, নানির জন্য ১,৫০০ টাকা এবং রাহিদুলের চিকিৎসার জন্য আরও ১,০০০ টাকা প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, সপ্তাহে প্রায় ৭,০০০ টাকা শুধুমাত্র ওষুধের পেছনেই ব্যয় হয়, যা তাদের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।

বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত এই বৃদ্ধ দম্পতি চরম অভাবের মধ্যেও পরম মমতায় তাদের প্রতিবন্ধী নাতিকে আগলে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু নিজেদের নিত্যদিনের অন্নসংস্থান করাই যেখানে কঠিন, সেখানে শিশুটির চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করা তাদের জন্য এক বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন মানবেতর পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে এই অসহায় পরিবারটির জন্য সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। সামান্য সহযোগিতাই পারে শিশু রাহিদুলের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও আলোকিত করতে এবং বৃদ্ধ নানা-নানীর কষ্ট লাঘব করতে।