স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে রাঙামাটি জেলা তাঁতীদলে তোলপাড়, ‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবি


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০৫:৩১ পিএম, ২০২৬-০৫-০৭

স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে রাঙামাটি জেলা তাঁতীদলে তোলপাড়, ‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবি

রাঙামাটিতে জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের নতুন জেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে এবং নেতাদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ‘ভুয়া’ ও ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে এখন সরব হয়ে উঠেছেন দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তাদের নাম ব্যবহার করে এবং স্বাক্ষর জাল করে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। বক্তারা বলেন, “আমরা জানতামই না যে আমাদের নাম কোনো কমিটিতে দেওয়া হয়েছে। কাগজে দেখানো স্বাক্ষরের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতি।”

সংবাদ সম্মেলনে হাতে লেখা একটি তালিকা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে জেলা ও সদর উপজেলার অন্তত ১৭ জন সিনিয়র নেতা এই কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা তাঁতীদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুবেল চাকমা, যিনি দাবি করেন তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এছাড়াও সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বিপুল চাকমা, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সাঈদুল ইসলাম, রাঙামাটি পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. শহীদুল ইসলাম এবং জেলা তাঁতীদলের সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা কমিটি বাতিলের দাবি জানান।

বক্তারা অভিযোগ করেন, দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে একটি বিশেষ মহল নিজেদের স্বার্থে এই বিতর্কিত কমিটি গঠন করেছে। সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারেও লেখা ছিল, “স্বাক্ষর জালিয়াতি করে রাঙামাটি জেলা তাঁতীদলের ভুয়া কমিটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন”।

নেতাকর্মীরা বলেন, তৃণমূলকে বাদ দিয়ে কোনো কমিটি টেকসই হতে পারে না। যারা জালিয়াতির মাধ্যমে পদ দখলের চেষ্টা করছে তারা দলের প্রকৃত বন্ধু নয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি দ্রুত তদন্ত করে এই কমিটি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দাবি না মানা হলে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে এবং গণপদত্যাগের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

এদিকে, পুরো ঘটনায় রাঙামাটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।