থানচির দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত ৮৪ শিশু


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৮:৪২ পিএম, ২০২৬-০৫-১৯

থানচির দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত ৮৪ শিশু

বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার রেমাক্রী ইউনিয়নের কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে হাম-রুবেলা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৪ জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তরা সবাই স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লিটক্রে ম্রো পাড়া, সূর্যমনি ত্রিপুরা পাড়া, ছোট ও বড় ইয়াংব পাড়া, রেনি ম্রো পাড়া, মানযা ম্রো পাড়াসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামে শিশুদের মধ্যে দ্রুত রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পাওয়ার পর রোববার সকালে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি পাঁচ সদস্যের মেডিকেল টিম জরুরি ভিত্তিতে আক্রান্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। টিমের সঙ্গে হাম-রুবেলা, জ্বর, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া ও সর্দি-কাশির প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাসিবুল।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মাংচং ম্রো জানান, পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলার কুরুপপাতা এলাকা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছুটিতে বাড়ি ফেরার পর তাদের মাধ্যমে রোগটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, দুর্বলতা ও শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গম এই এলাকা থানচি সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এবং একমাত্র সাংগু নদীপথে যাতায়াত সম্ভব। সেখানে পৌঁছাতে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় দুই দিন সময় লাগে। তাই দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন জরুরি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, এর আগে থানচি সদরের দুটি ছাত্রাবাস থেকেও হামের উপসর্গ নিয়ে কয়েকজন শিশু ও নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে আক্রান্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসুস্থ শিশুদের আলাদা রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।