ঈদুল আজহা ঘিরে রাঙ্গামাটির কামারপাড়ায় তুমুল ব্যস্ততা দম ফেলার ফুসরত নেই কামারের কারখানায়


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ১১:২০ পিএম, ২০২৬-০৫-২১

ঈদুল আজহা ঘিরে রাঙ্গামাটির কামারপাড়ায় তুমুল ব্যস্ততা দম ফেলার ফুসরত নেই কামারের কারখানায়

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী বনরূপা বাজারের কামারপাড়ায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা।

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম—দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও কাছি তৈরিতে এখন দিন-রাত এক করে কাজ করছেন কামার শিল্পীরা।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাপরের আগুন, হাতুড়ির টুংটাং শব্দ আর ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

বনরূপা এলাকার সুপরিচিত কামার শিল্পী অজিদ কুমার, যিনি স্থানীয়দের কাছে “অজিদ দাদা” নামে পরিচিত, তাঁর কারখানায় এখন সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা।

নতুন অস্ত্র তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরি ও চাপাতিতে শান দিতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। কারিগরদের কারও দম ফেলার সময় নেই।

কেউ আগুনে লোহা গরম করছেন, কেউ হাতুড়ির আঘাতে আকার দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ধারালো করার কাজে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়লার তীব্র আগুনে লোহা লাল টকটকে করে গলিয়ে দক্ষ হাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কোরবানির সরঞ্জাম।

বছরের অন্য সময় তুলনামূলক কাজ কম থাকলেও কোরবানির ঈদ সামনে এলেই কয়েকগুণ বেড়ে যায় কাজের চাপ ও বিক্রি।

অজিদ কামার বলেন,
“এটি আমাদের বাপ-দাদার পেশা। সারা বছর আমরা ঈদের এই সময়টার অপেক্ষায় থাকি। কষ্ট অনেক, কিন্তু মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারলে ভালো লাগে। চেষ্টা করি সময়মতো ভালো মানের জিনিস ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে।”

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোহার মান ও সরঞ্জামের আকারভেদে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। মাংস কাটার ভারী চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকায়।

পশু জবাইয়ের বড় ছুরির দাম ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত। চামড়া ছাড়ানোর ছোট ছুরি পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকায়। এছাড়া পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিতে খরচ হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা।

স্থানীয় এক ক্রেতা জানান,
“ঈদের আর বেশি দিন বাকি নেই। শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগেভাগেই দা-ছুরি ধার দিতে এসেছি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার লোহার দাম বেড়েছে, তাই মজুরিও কিছুটা বেশি।”

ঐতিহ্যবাহী এই কামারশিল্প আধুনিকতার ভিড়ে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসলেও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে বনরূপার কামারপাড়া।

স্থানীয়দের আশা, এই প্রাচীন পেশা ও শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত বনরূপা কামারপাড়ার এই ব্যস্ততা, আগুনের ঝলকানি আর টুংটাং শব্দ অব্যাহত থাকবে।