রাবিপ্রবিতে বহিষ্কার ও সনদ বাতিল ইস্যুতে সাবেক ভিসি আতিয়ারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৪:২৪ এএম, ২০২৬-০৫-২৮

রাবিপ্রবিতে বহিষ্কার ও সনদ বাতিল ইস্যুতে সাবেক ভিসি আতিয়ারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) থেকে বহিষ্কার ও সনদ বাতিল হওয়া শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ শীল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে তিনি তদন্ত কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বক্তব্যও তুলে ধরেছেন।

নিজেকে রাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে বিশ্বজিৎ শীল দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে কখনও আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক খোকেনশ্বর স্যারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, “সমস্ত নিয়ম অনুসরণ করেই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।” তবে তদন্ত রিপোর্ট দেখতে চাইলে সেটিকে “বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপনীয় নথি” বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বজিৎ আরও দাবি করেন, তদন্ত কমিটির সদস্য সাখাওয়াত স্যার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে সদস্য মাঈনুদ্দিন স্যার নাকি তাকে বলেছেন, বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্তে তার মতামত নেওয়া হয়নি এবং তিনিও বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন।

স্ট্যাটাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড সদস্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষিকা সূচনা ম্যামের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, রিজেন্ট বোর্ডে পুরো বিষয়টি সাবেক ভিসি আতিয়ার রহমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি একক সিদ্ধান্ত নেন।

তৎকালীন প্রক্টর সাদ্দাম হোসেন স্যারকেও উদ্ধৃত করে বিশ্বজিৎ লেখেন, “যা করেছে ভিসি স্যার করেছে, তিনি অনেক প্রভাবশালী।” এমনকি ভিসির বিরুদ্ধে কথা বললে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া বিশ্বজিৎ শীল অভিযোগ করেন, সাবেক ভিসি আতিয়ার রহমান সম্প্রতি গণমাধ্যমে তাদের করা রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করেছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা “মিথ্যা”। তার দাবি, হাইকোর্ট থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকযোগে আবেদনও করা হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টের শেষে বিশ্বজিৎ শীল লেখেন, “আমি বরাবরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আবারও দেখা হবে স্যারদের সঙ্গে, সময় বৃত্তের ন্যায় ঘুরে।” 

তবে বহিস্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ শীলের এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ভিসি অধ্যাপক আতিয়ার রহমানের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।