বর্ষার জলাবদ্ধতা দূর করতে কবরস্থান সংস্কারে গ্রামবাসীর উদ্যোগ


ওমর ফারুক সুমন    |    ০৯:৪৬ পিএম, ২০২৬-০৫-৩০

বর্ষার জলাবদ্ধতা দূর করতে কবরস্থান সংস্কারে গ্রামবাসীর উদ্যোগ

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক গ্রামের কবরস্থান সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্থানীয় কবরস্থান পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী।

মানবিক, ধর্মীয় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এই মহৎ কাজে অংশ নিয়ে এলাকার শতাধিক মানুষ কবরস্থানের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

শনিবার সকাল থেকে মুসলিম ব্লক কবরস্থান পরিচালনা কমিটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে গ্রামের অর্ধশতাধিক যুবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংস্কার কাজে অংশ নেন।

কবরস্থানের নিচু ও জলাবদ্ধ অংশ ভরাটের জন্য কমপক্ষে ১০টি ছয় চাকার ট্রলি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নামমাত্র মূল্যে প্রায় ৪০০ ট্রলি মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা কবরস্থানের সংস্কার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবরস্থানের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিচু অবস্থায় থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে যেত এবং অনেক সময় কবরস্থান প্লাবিত হয়ে পড়ত।

ফলে মৃতদেহ দাফন করতে এলাকাবাসীকে নানা ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হতো। এই সমস্যা সমাধানে এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে কবরস্থান সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে।

মুসলিম ব্লক কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন মাস্টার বলেন,
“আমাদের কবরস্থানের একটি অংশ নিচু হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মৃতদেহ দাফন করতে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের জন্য এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কবরস্থান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করায় কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে কবরস্থানকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত রাখতে একটি গার্ডওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, কবরস্থান শুধু মৃতদের চিরনিদ্রার স্থান নয়, এটি একটি সমাজের ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতীক। তাই কবরস্থানের পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণে সকলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

এদিকে সংস্কার কাজ পরিদর্শনে এসে বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী এলাকাবাসীর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন,
“স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কবরস্থান সংস্কারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি মহৎ ও দৃষ্টান্তমূলক কাজ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজেই সম্ভব। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করছি।”

স্থানীয়রা জানান, কবরস্থান সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বর্ষাকালে আর জলাবদ্ধতার কারণে দাফন কাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না।

একই সঙ্গে কবরস্থানের পরিবেশ আরও সুন্দর ও ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠবে।

এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ধর্মীয় দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে মুসলিম ব্লক গ্রামের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কবরস্থানটিকে আরও আধুনিক ও স্থায়ী অবকাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে।

ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও স্বেচ্ছাশ্রমের সমন্বয়ে মুসলিম ব্লক গ্রামের এই কবরস্থান সংস্কার কার্যক্রম এলাকাবাসীর ঐক্য, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক চেতনার এক উজ্জ্বল নজির হয়ে থাকবে।