দীর্ঘদিন ধরে শূন্য ১৪ সরকারি দপ্তরের প্রধানের পদ কর্মচারীদের দিয়ে চলছে অফিস


আজগর আলী খান    |    ১২:০৮ এএম, ২০২৬-০৬-২৫

দীর্ঘদিন ধরে শূন্য ১৪ সরকারি দপ্তরের প্রধানের পদ কর্মচারীদের দিয়ে চলছে অফিস

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি সরকারি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রম বর্তমানে কর্মচারী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও প্রয়োজনীয় অনেক সেবা সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের আওতাধীন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শূন্য থাকা দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, সমবায় অফিস, মৎস্য অফিস, প্রাণিসম্পদ অফিস, পরিসংখ্যান অফিস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), ট্রেজারি অফিস, এলজিইডি প্রকৌশলী কার্যালয়, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ, রিসোর্স অফিসার, আইসিটি কর্মকর্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ।

জানা গেছে, এসব দপ্তরের কোনো কোনো পদ ২ বছর, ৪ বছর, এমনকি ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন কর্মকর্তা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে একজন কর্মচারীকে অফিসের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

ফলে কোনো কর্মচারী ছুটিতে গেলে কিংবা সরকারি কাজে বাইরে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট অফিস কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেবা নিতে এসে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ প্রায় চার বছর ধরে শূন্য। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পদ দুই বছর ধরে খালি রয়েছে।

একইভাবে পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদ সাত থেকে আট বছর ধরে শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য, পরিসংখ্যান, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখসহ একাধিক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, “উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা না থাকায় সাধারণ মানুষ নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

প্রয়োজনীয় সেবা পেতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

এদিকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইহানুল ইসলাম বলেন, “আমি নিজেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি।

গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা না থাকায় জনসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

কর্মকর্তাদের আবাসন-সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে, তবে সেগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুনরায় অবহিত করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম উপজেলা হওয়ায় রাজস্থলীতে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও ধরে রাখা দীর্ঘদিনের একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে জনগণের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তার অনুপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, বরং জনসেবার মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তাই জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এসব শূন্য পদ পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।