ইয়াবা পাঁচারে জড়াচ্ছে পাহাড়িরাও! রাঙামাটি থেকে ঢাকায় ৮ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৪


আলমগীর মানিক    |    ১০:৪৬ পিএম, ২০২৬-০৬-২৭

ইয়াবা পাঁচারে জড়াচ্ছে পাহাড়িরাও! রাঙামাটি থেকে ঢাকায় ৮ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৪

মাদক ব্যবসায় এখন সমতলের পাশাপাশি পার্বত্য এলাকার কিছু মানুষও জড়িয়ে পড়ছে; এমন উদ্বেগজনক চিত্র আবারও সামনে এসেছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাঙামাটি থেকে ঢাকায় পাচারের সময় ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

শনিবার (২৭ জুন) ভোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের ধানমন্ডি সার্কেলের একটি বিশেষ অভিযানিক দল মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা এলাকায় অস্থায়ী মাদকবিরোধী চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, রাঙামাটি থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রো-ব-১১-১৯১৫ নম্বরের সৌদিয়া সিল্কি পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে চার যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৮ হাজার পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—কেরামা চাকমা (৩৮), লাউমং চাকমা (৪৪), লেড়াইয়া চাকমা (২৪) ও চামিয়া চাকমা (২৯)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, তারা পরস্পরের আত্মীয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, গন্তব্য এবং এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।"

প্রসঙ্গত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক একাধিক অভিযানে পার্বত্য অঞ্চলকে ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের প্রবণতা এবং কিছু ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই পুরো ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়; অপরাধের দায় সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।