মন্ত্রীত্ব গেলেও জনসমর্থনে অটুট দীপেন দেওয়ান, রাজসিক সংবর্ধনায় রাঙামাটিতে প্রত্যাবর্তন

পাহাড়ি-বাঙ্গালি ভাই ভাই হয়ে থাকতে চাই; দীপেন

আলমগীর মানিক    |    ০১:৩৩ এএম, ২০২৬-০৭-০২

মন্ত্রীত্ব গেলেও জনসমর্থনে অটুট দীপেন দেওয়ান, রাজসিক সংবর্ধনায় রাঙামাটিতে প্রত্যাবর্তন

আলমগীর মানিক

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের প্রায় এক মাস পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙামাটিতে ফিরে নজিরবিহীন গণসংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। জেলার প্রবেশমুখ থেকে দলীয় কার্যালয় পর্যন্ত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করেছে—সরকারি পদ হারালেও জনগণের ভালোবাসা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় কোনো ভাটা পড়েনি।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা থেকে সড়কপথে রাঙামাটিতে পৌঁছালে কাউখালীর বেতবুনিয়ার গোদারপাড়, ঘাগড়া এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উচ্ছ্বসিত সংবর্ধনায় তাকে বরণ করে নেন বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের মানুষ। পরে শত শত মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রাসহ বিকেল ৪টায় তিনি রাঙামাটি শহরের কাঠালতলী জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৌঁছালে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

দীর্ঘ প্রায় এক মাস পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন নেতাকর্মীরা। পথে পথে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে এবং নানা স্লোগানে তাকে স্বাগত জানানো হয়।

স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল কেবল একজন সাবেক মন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন নয়, বরং একজন জনপ্রিয় গণনেতার প্রতি সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপেন দেওয়ান বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই দলের তৃণমূলের শক্তিকে দুর্বল করতে পারবে না। তিনি বলেন, "আমি তৃণমূলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তৃণমূলই বিএনপির প্রাণশক্তি।"

তিনি আরও বলেন, "আমি এখনও জনগণের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। দলের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।"

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, "তারেক রহমানই আমাদের নেতা। তাঁর নির্দেশই আমাদের কাছে চূড়ান্ত নির্দেশ।"

পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে দীপেন দেওয়ান পাহাড়ি ও বাঙালির ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো অপশক্তিকে পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির এবং রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়; ক্ষমতার চেয়ার নয়, জনগণের ভালোবাসাই একজন নেতার প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তি। অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে ঘিরে রাঙামাটিতে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা তার সাংগঠনিক ভিত্তি ও জনআস্থার শক্ত অবস্থানেরই প্রতিফলন। অনেকের মতে, মন্ত্রিত্ব হারালেও তিনি মানুষের হৃদয়ে আগের মতোই আস্থার প্রতীক হয়ে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দায়িত্ব গ্রহণের ১০২ দিন পর তার এই পদত্যাগ দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে তাকে পুনর্বহালের দাবিতে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনও অনুষ্ঠিত হয়।

পদত্যাগের পর ঢাকায় অবস্থান করলেও তিনি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নেন। অবশেষে প্রায় এক মাস পর নিজ এলাকায় ফিরে আবারও প্রমাণ করলেন; জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় শক্তি।