ভারী বর্ষণে জুরাছড়িতে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ও


স্মৃতিবিন্দু চাকমা    |    ০৩:১০ এএম, ২০২৬-০৭-১০

ভারী বর্ষণে জুরাছড়িতে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ও

টানা অতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলার মৈদং ও জুরাছড়ি সদর ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি এবং কৃষকদের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নদী-ছড়া ও খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে বসতবাড়ির পাশাপাশি আমন ধানের জমি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

জুরাছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাসুদ রানা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মৈদং ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের জন্য দুই মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে জুরাছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অনিল বরণ চাকমা বলেন, "দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসেনি। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দুর্যোগকালীন সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছি। একই সঙ্গে সরকারের বরাদ্দ যেন সঠিকভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি।"

এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জামুরাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শীলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বারুদগোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামোর আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।