কাপ্তাই লেক দখলমুক্ত করতে সীমানা জরিপের নির্দেশ হাই কোর্টের


মেহেদী হাসান    |    ০৮:১৬ পিএম, ২০২৬-০৮-১৬

কাপ্তাই লেক দখলমুক্ত করতে সীমানা জরিপের নির্দেশ হাই কোর্টের

 

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের সীমানা জরিপ করে এর ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট।

আগামী চার মাসের মধ্যে যৌথভাবে এ জরিপ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল ও পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

আদেশের পর তিনি জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করা হলেও বর্তমানে অনেকে অবৈধভাবে লেকের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি দূষণ ঘটাচ্ছেন।

অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করতে সীমানা জরিপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

আইনজীবী বলেন, উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে অনেকেই নিজেদের জমির মালিক দাবি করছেন। ফলে প্রকৃত অবৈধ দখলদারদের শনাক্ত করে উচ্ছেদ করা কঠিন হচ্ছে।

এ কারণে কাপ্তাই লেকের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা চাওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, লেক সৃষ্টির সময়কার সীমানা-সংক্রান্ত রেকর্ড জেলা প্রশাসনের কাছে না থাকায় আগে জরিপে জটিলতা দেখা দিয়েছিল।

এবার জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জরিপ অধিদপ্তরকেও জরিপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিটের শুনানি শেষে কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে রুল জারি ও জরিপের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাই কোর্ট।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে প্রকৃত অবৈধ দখলদার শনাক্ত করতে সীমানা জরিপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় এইচআরপিবির পক্ষ থেকে কাপ্তাই লেকের ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির আবেদন করা হয়।

এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চার মাসের মধ্যে জরিপ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট।