রাঙামাটি–রাজস্থলী সড়কে পিকআপ-জীপ চলাচলে বাধার অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা


সোহেল রানা    |    ০৭:৪১ পিএম, ২০২৬-০৮-১৯

রাঙামাটি–রাজস্থলী সড়কে পিকআপ-জীপ চলাচলে বাধার অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

রাঙামাটি–রাজস্থলী সড়কে যাত্রীবাহী পিকআপ ও জীপ চলাচলে বাধা, গাড়ি আটকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং চালক-মালিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

বুধবার (১৯ আগষ্ট) নিরাপদে যাত্রীসেবা পরিচালনার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

রাঙামাটি যাত্রীবাহী পিকআপ মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একই দাবিতে রাঙামাটি জেলা কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ-জীপ গাড়ি চালক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারাও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান।

স্মারকলিপি সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি থেকে রাজস্থলী রুটে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত যাত্রীবাহী যান চলাচল না করায় এ পথে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে কাপ্তাই ও রাজস্থলী এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি-বেসরকারি কাজ ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে রাঙামাটি যাত্রীবাহী পিকআপ মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং রাঙামাটি জেলা কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ-জীপ গাড়ি চালক শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে গত ১৬ আগস্ট থেকে রাঙামাটি–রাজস্থলী রুটে পর্যটকবাহী পিকআপ ও জীপের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে যাত্রীসেবা চালুর উদ্যোগের শুরুতেই বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা। তাদের দাবি, ১৬ আগস্ট গাড়ি চলাচল শুরু করতে গেলে চট্টগ্রাম ও রাউজান থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি এবং চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি ও চালক সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন বাধা দেন। সকাল ৭টার দিকে বাস দিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পিকআপ ও জীপ থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং কয়েকটি গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়, রাজস্থলী থেকে যাত্রী নিয়ে রাঙামাটির দিকে আসার সময় একটি পিকআপ-জীপকে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী এলাকায় থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারীরা। পরদিন ১৭ আগস্ট একই এলাকায় আবারও একটি গাড়ি আটকে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পিকআপ ও জীপ চলাচল অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং রাঙামাটি থেকে কার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে রাউজানের ওপর দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় গাড়ির মালিক ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারীরা আরও দাবি করেছেন, রাঙামাটি–রাজস্থলী সড়কে প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে নিয়মিত যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, রাঙামাটি জেলার অভ্যন্তরে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাত্রী পরিবহনে স্থানীয় মালিক ও শ্রমিকরা উদ্যোগ নিলে কেন বাধা দেওয়া হবে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাঙামাটি–রাজস্থলী রুটে পিকআপ ও জীপ চলাচলের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরাপদ পরিবেশে যান চলাচলের সুযোগ দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ ছাড়া আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির অধিকাংশ মালিক ও শ্রমিক চট্টগ্রাম ও রাউজান এলাকার বাসিন্দা। তাদের দাবি, ওই সমিতির কিছু লোকজন রাঙামাটির বাসিন্দাদের বিভিন্নভাবে জিম্মি করে নিজেদের ইচ্ছামতো গাড়ি পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে রাঙামাটির স্থানীয় মালিক ও শ্রমিকরা জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে।

স্মারকলিপিটি রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের পক্ষে গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেন। একই সঙ্গে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপির মাধ্যমে রাঙামাটি–রাজস্থলী রুটে যাত্রীসেবা চালু রাখতে গিয়ে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা, বাধা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পিকআপ ও জীপ চলাচলে প্রশাসনিক সহযোগিতা চেয়েছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে রাঙামাটি যাত্রীবাহী পিকআপ মালিক সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহিন আল মামুন ও নির্মল বড়ুয়া মিলন, সভাপতি প্রজেশ চাকমা, সাধারণ সম্পাদক লিটন চাকমা; রাঙামাটি জেলা কার, মাইক্রোবাস ও জীপ গাড়ি চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন, লাইন সম্পাদক বাবু টুলু বড়ুয়া এবং প্রচার সম্পাদক মো. আরাফাত হোসেনসহ সংগঠন দুটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।