পাহাড়ের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: দীপেন দেওয়ান


আলমগীর মানিক    |    ১২:৩৭ এএম, ২০২৬-০৯-২৭

পাহাড়ের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সমপর্যায়ে নিয়ে আসতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য সরকার পৃথক বরাদ্দ দিয়েছে এবং সেই বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ, রাঙামাটি জেলা আয়োজিত শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি প্রদান, আলোচনা সভা, সনদ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপেন দেওয়ান বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি।

বরং বরাদ্দের নামে নানা অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সময়ে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে এবং কোনো অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকেও এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা বিকাশে শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসনীয়।

ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ, রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মাওলানা আনোয়ারুল মোস্তফা হেজাজী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাঙামাটির সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদের সাবেক কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. আখতার হোসেন চৌধুরী, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেল, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন এবং রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির আলম।

শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ, রাঙামাটি জেলার সমন্বয়ক হাফেজ তানজিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ খোবাইব।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মো. হাসান ও ইসমাঈল হোসেন মুন্না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবদুল আলী একাডেমির সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর, তৈয়বিয়া আইডিয়াল স্কুলের উপাধ্যক্ষ মো. মনসুর আলী, শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ, রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মো. আলী খান ও মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

আলোচনা সভা শেষে শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ, সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহ সৃষ্টি এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের বৃত্তি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।