রাঙামাটিতে জাতীয় যুবদিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ১০:৫৭ পিএম, ২০২৬-১১-০১

রাঙামাটিতে জাতীয় যুবদিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় যুবদিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকালে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে র‍্যালি শেষে আয়োজিত যুবমেলার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপেন তালুকদার দীপু। এ সময় তিনি ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) মেজর মো: জুলফিকার রহমান পিএসসি ও জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদ সদস্য ও যুব উন্নয়নবিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াইমং মারমা।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেন, তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের উদ্যোগী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নতুন নতুন চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণরা যে উদ্যোগ গ্রহণ করবে, সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা পরিষদ সহযোগিতা করবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা, যোগ্যতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা এমন একটি ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সমান সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

জোন কমান্ডার জুলফিকার রহমান পিএসসি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের মধ্যে রয়েছে নতুন কিছু করার সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করতে হবে। যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি। শুধু প্রচলিত চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের স্থানীয় সম্ভাবনা, সম্পদ ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে হবে।

জেলা পরিষদ সদস্য ও যুব উন্নয়নবিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াইমং মারমা যুবসমাজকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।