কাপ্তাই হ্রদে সংঘটিত ডাকাতির রহস্য উন্মোচনের পথে পুলিশ; গ্রেপ্তার-২


আলমগীর মানিক    |    ০২:১৪ এএম, ২০২৬-০৯-০৬

কাপ্তাই হ্রদে সংঘটিত ডাকাতির রহস্য উন্মোচনের পথে পুলিশ; গ্রেপ্তার-২

কাপ্তাই হ্রদে সংঘটিত ডাকাতির রহস্য উন্মোচনের পথে পুলিশ, আলামতসহ গ্রেপ্তার-২

কাপ্তাই লেকে ডাকাতি: চার মাস পর পুলিশের জালে দুইজন, উদ্ধার লুটের ব্যাগ

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি

কাপ্তাই লেকের মাঝে নৌযানে ডাকাতি করে চার লাখ টাকা, মোবাইল ফোন, ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটের প্রায় চার মাস পর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙামাটির কোতয়ালী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজনের একজনের বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির সময় নিয়ে যাওয়া টাকার ব্যাগ।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় ঘটনার সঙ্গে তাদের প্রকৃত সম্পৃক্ততা ও ডাকাতির পুরো চক্র সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে ২০২৬ বেলা ৩টার দিকে রাঙামাটি জেলার কোতয়ালী থানাধীন বালুখালী ইউনিয়নের আদার পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই লেকের মধ্যে অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল এক ব্যক্তির ওপর ডাকাতি করে। এ সময় তার কাঁধে থাকা ব্যাগে রাখা নগদ চার লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা।

শুধু টাকা নয়, ওই ব্যাগে থাকা একটি মোবাইল ফোন, এয়ারটেল সিম, ব্র্যাক ব্যাংক বনরূপা শাখার অব্যবহৃত চেকবই, মানিব্যাগ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির কাগজপত্রও নিয়ে যায় ডাকাতরা।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ৮ মে ২০২৬ কোতয়ালী থানায় মামলা নম্বর-০৫, জিআর নম্বর-৬৬ এবং দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

মামলাটি দায়েরের পর তদন্ত কার্যক্রম চলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএমের নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

অভিযানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আহাম্মেদ সফি (৪৪) এবং তক্তারাম @ সুব্রত চাকমা (৩২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আহাম্মেদ সফি রাঙামাটির বালুখালী ইউনিয়নের আদার পাহাড় এলাকার বাসিন্দা। অপর গ্রেপ্তার তক্তারাম @ সুব্রত চাকমা রাঙামাটি শহরের দেওয়ানপাড়া পর্যটন এলাকার বাসিন্দা।

তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে পুলিশ জানায়, তক্তারাম @ সুব্রত চাকমার বসতবাড়ি থেকে ডাকাতির সময় নিয়ে যাওয়া টাকার ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়েছে। লুটের মালামালের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ব্যাগটি উদ্ধারের ঘটনাটি মামলার তদন্তে নতুন সূত্র তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার শুরুতে ডাকাতের সংখ্যা ছিল ৬ থেকে ৭ জন। অথচ প্রায় চার মাস পর গ্রেপ্তার হয়েছেন দুজন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে; বাকি সদস্যরা কারা? লুট হওয়া চার লাখ টাকার পুরো অর্থ কোথায় গেল? মোবাইল, চেকবই, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্রের কী হয়েছে? আর উদ্ধার হওয়া ব্যাগটি কীভাবে একজন অভিযুক্তের বাড়িতে গেল?

বিশেষ করে কাপ্তাই লেকের মতো বিস্তৃত জলভাগে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় অপরাধীদের চলাচল, ব্যবহৃত নৌযান, সহযোগীদের পরিচয় এবং লুটের অর্থ ভাগ-বণ্টনের বিষয়গুলো উদঘাটন করা গেলে পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন ডাকাতি সংঘটনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে তাদের স্বীকারোক্তির আইনগত গ্রহণযোগ্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে অন্যদের সম্পৃক্ততা আদালত ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

পুলিশের এই অভিযান ও একটি আলামত উদ্ধারের ফলে চার মাস ধরে তদন্তাধীন থাকা মামলাটি নতুন গতি পেয়েছে। এখন তদন্তকারীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা এবং লুট হওয়া টাকা ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তার আহাম্মেদ সফিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর আসামি তক্তারাম @ সুব্রত চাকমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকেও বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হবে।