কাপ্তাই লেকে ফের বাড়ছে পানি, ১৬ জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দিল কর্তৃপক্ষ


আলমগীর মানিক    |    ১১:১৫ এএম, ২০২৬-০৯-১১

কাপ্তাই লেকে ফের বাড়ছে পানি, ১৬ জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দিল কর্তৃপক্ষ

আলমগীর মানিক

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ হিসেবে পরিচিত রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে আবারও দ্রুত বাড়ছে পানির উচ্চতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি ও ভাঙনঝুঁকি কমাতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়। বর্তমানে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল।

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে লেকের পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়া ও ভাঙনের ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আগেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্পিলওয়ের গেট খুলে পানি বের করে দেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই লেকের পানি ১০৬ দশমিক ০১ ফুট এমএসএল অতিক্রম করলে একইভাবে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়।

পরে লেকের পানির উচ্চতা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে গেট খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে প্রতিটি জলকপাট ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা হলে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়। পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে এলে গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে কয়েকদিনের ব্যবধানে ফের লেকের পানি বাড়তে থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে একই প্রক্রিয়ায় ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বর্তমানে লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে স্থির হলে গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। ফলে লেকের পানি ওই সীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।