আলমগীর মানিক | ০৯:০৯ পিএম, ২০২৬-০৯-২৪
আলমগীর মানিক
পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা সাদা জলধারা, নিচে কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি আর চারপাশে সবুজের সমারোহ; প্রকৃতি যেখানে দুহাত উজাড় করে সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে, সেখানে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় যেন সেই সৌন্দর্যের ছাপ নেই।
বর্ষায় প্রায় ৩০০ ফুট ওপর থেকে নেমে আসা সুবলং ঝর্ণার জলধারা দেখতে প্রতিদিন ছুটছেন পর্যটকেরা।
কিন্তু নিরাপত্তা, অবকাঠামো, শৃঙ্খলা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় নানা সীমাবদ্ধতায় অপার সম্ভাবনাময় এই পর্যটনকেন্দ্রটি এখনও পুরোপুরি পর্যটকবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি।
রাঙামাটি শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বরকল উপজেলার সুবলং ঝর্ণা। সড়কপথে সরাসরি যাওয়ার সুযোগ নেই।
শহরের বিভিন্ন ঘাট থেকে নৌযান বা স্পিডবোটে কাপ্তাই হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি পেরিয়ে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে পৌঁছাতে হয় সেখানে।
হ্রদের নীল জল আর পাহাড়ের সবুজের মাঝ দিয়ে এই নৌযাত্রাও পর্যটকদের কাছে হয়ে ওঠে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
বর্ষা এলেই বদলে যায় সুবলংয়ের রূপ। পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা কয়েক ধাপে নিচে গড়িয়ে পড়ে কাপ্তাই হ্রদের জলে।
ঝরনার কলকল শব্দ, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর হ্রদের জলরাশি মিলে তৈরি করে এক মায়াবী পরিবেশ। পানির প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে পর্যটকের আনাগোনাও।
তবে ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে পর্যটকদের সামনে উঠে আসছে ব্যবস্থাপনার নানা প্রশ্ন।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা, ঝর্ণার দুই পাশে পরিকল্পিত চলাচলের পথের সীমাবদ্ধতা, নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা নিরাপদ স্থান না থাকা, বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় পর্যটনসেবার ঘাটতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে আগতদের মধ্যে।
বগুড়া থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ভাষ্য, সুবলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেই ঝর্ণার দুই পাশে পরিকল্পিত ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এতে পর্যটকেরা ঝুঁকি কমিয়ে ঝর্ণার বিভিন্ন অংশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ স্থান নির্ধারণ, পর্যটকদের চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা দরকার।
তাদের মতে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না; ঝর্ণা, পাহাড় ও হ্রদের নিজস্ব ইকোসিস্টেম বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা অতিরিক্ত পর্যটনচাপ যাতে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট না করে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
ফেনী থেকে আসা পর্যটক জয়নাল আবেদীন বলেন, কয়েক বছর আগে সুবলংয়ে এসে যে চিত্র দেখেছিলেন, এক দশক পরও প্রায় একই অবস্থাই দেখছেন।
তাঁর ভাষায়, “শুধু ইজারা দিয়ে টাকা কামালেই হবে না। অপার সম্ভাবনাময় সুবলং ঝর্ণাকে প্রকৃত অর্থেই পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।”
স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, সুবলংকে ঘিরে শুধু দর্শনীয় স্থান নয়, একটি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও রয়েছে।
পর্যটকদের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে নৌযান, খাবার, স্থানীয় পণ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠলে এসব খাতে আরও কর্মসংস্থান ও আয় বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে প্রবেশব্যবস্থা, নৌযান ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় পণ্য বিপণনসহ পর্যটনসেবাগুলোকে সুশৃঙ্খল করা গেলে সরকারি রাজস্ব আয়েরও সুযোগ বাড়বে। তবে সেই উন্নয়ন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে।
কারণ সুবলংয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। পাহাড় কেটে কিংবা কংক্রিটের ভারে ঝর্ণার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে পর্যটন উন্নয়ন করলে শেষ পর্যন্ত সেই সৌন্দর্যই হারিয়ে যেতে পারে।
তাই প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব ওয়াকওয়ে, নিরাপদ সিঁড়ি, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পর্যটক নিরাপত্তার সমন্বিত পরিকল্পনা।
বর্ষায় পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা সাদা জলধারা যখন কাপ্তাই হ্রদের নীল জলে মিশে যায়, তখন সুবলং যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জলছবি।
সেই জলছবির প্রতি মানুষের আকর্ষণ আছে, পর্যটনের সম্ভাবনাও আছে। এখন প্রয়োজন শুধু সেই সম্ভাবনাকে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজে লাগানো।
প্রকৃতির সৌন্দর্যকে পুঁজি করে শুধু ইজারা ও রাজস্ব আদায় নয়! সুবলংকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তোলাই হতে পারে এই নৈসর্গিক জনপদের টেকসই পর্যটন উন্নয়নের পথ।
মেহেদী হাসান : পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীà...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : স্বপ্নে হোক সূচনা, সাধনায় হোক পূর্ণতা’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার বেতà¦...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙামাটিতে কোতোয়ালি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারের অভিযোগ, মাদ...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : রাঙামাটিতে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় মো. হান্নান মোল্লা (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ à...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকে পড়ায় চরà...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে রাঙামাà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited