বান্দরবানে চার মাস ধরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৪:২০ পিএম, ২০২৬-০৯-১৬

বান্দরবানে চার মাস ধরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় এক কিশোরীকে প্রায় চার মাস ধরে জিম্মি রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে জোর করে গর্ভপাত করান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঘটনাটি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়।

এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারের করা মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে একা থাকার সময় কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ক্যসিংনু মার্মা। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করার এবং ঘটনা প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।

এরপর ক্যসিংনু মার্মার তিন বন্ধু উহাইমং মার্মা, সিংহ্লা মার্মা ও উশৈনু মার্মা বিভিন্ন সময়ে কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। লজ্জা ও প্রাণভয়ের কারণে কিশোরী এতদিন বিষয়টি কাউকে জানায়নি বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের একপর্যায়ে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি আর গোপন রাখতে না পেরে কিশোরী তার মা-বাবাকে ঘটনা জানায়।

গত ৮ সেপ্টেম্বর তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত জানার পর ১৩ সেপ্টেম্বর কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে চারজনকে আসামি করে রুমা থানায় মামলা করা হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, “কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে রুমা থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।