ডিসি’র উদ্যোগে ৬৬ বছর পর কাপ্তাই হ্রদে শুরু হচ্ছে বিআইডব্লিউটি’র স্থায়ী কার্যক্রম


আলমগীর মানিক    |    ০৪:০২ পিএম, ২০২৬-০৯-১৪

ডিসি’র উদ্যোগে ৬৬ বছর পর কাপ্তাই হ্রদে শুরু হচ্ছে বিআইডব্লিউটি’র স্থায়ী কার্যক্রম

আলমগীর মানিক

কাপ্তাই হ্রদের বিশাল নৌপথে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর উদ্যোগে দীর্ঘ ৬৬ বছর পর কাপ্তাই হ্রদে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) স্থায়ী কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া এগিয়েছে। জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে রাঙামাটিতে বিআইডব্লিউটিএর স্থায়ী অফিস স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়। বিষয়টি রাঙামাটি জেলা প্রশাসনও নিশ্চিত করেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় **৭৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদ** রাঙামাটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও পর্যটন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে আটটির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগে এ নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিদিন যাত্রীবাহী লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত নৌযান, মালবাহী নৌযান ও পর্যটকবাহী অসংখ্য ছোট নৌযান হ্রদে চলাচল করে।

এত বিশাল নৌপথে বিআইডব্লিউটিএর স্থায়ী কার্যালয় ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় নৌযান চলাচল তদারকি, নৌপথের নিরাপত্তা, নৌযানের নিয়মনীতি বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে নৌযানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপদ নৌ চলাচলের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বিগত ডিসি সম্মেলনে কাপ্তাই হ্রদের নৌপরিবহন ব্যবস্থাপনা জোরদারে রাঙামাটিতে বিআইডব্লিউটিএর স্থায়ী অফিস ও জনবল স্থাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠান তিনি। ওই চিঠির স্মারক নম্বর-০৫.৪২.৮৪০০.০০০.২০৪.০২.০০০৬.২০২৬.৫৫৫।

জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবে শুধু অফিস ও জনবল নয়, কাপ্তাই হ্রদের নৌপথে মার্কা, বীকন বাতি ও অন্যান্য নৌপথ নির্দেশক সরঞ্জাম স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে নৌযান চলাচল আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৩ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের পত্রে বলা হয়, রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের প্রেরিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই হ্রদের নৌপথে ভ্রমণরত পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআইডব্লিউটিএর স্থায়ী জনবলসহ অফিস স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। পত্রটির স্মারক নম্বর-১৮.০০.০০০০.০০০.০১৯.৯৯.০০২২.২৬.৩০৮।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর উদ্যোগে কাপ্তাই হ্রদের নৌপরিবহন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় এসেছে। স্থায়ী অফিস, জনবল ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট চালু হলে কাপ্তাই হ্রদের নৌযান ও নৌপথকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এতে একদিকে স্থানীয় মানুষের নৌযাত্রা আরও নিরাপদ হবে, অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে। পাশাপাশি নৌপথে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নৌযান তদারকি এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বিআইডব্লিউটিএর স্থায়ী কার্যক্রম।