চার বছরে চারবার আগুন, থানচিতে পুড়ল ১৩ দোকান, ক্ষতি দেড় কোটি টাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৪:৩৩ পিএম, ২০২৬-০৯-১৬

চার বছরে চারবার আগুন, থানচিতে পুড়ল ১৩ দোকান, ক্ষতি দেড় কোটি টাকা

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া বাজারে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে লাগা আগুনে বাজারের ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের মালামালসহ আনুমানিক দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতের দিকে বাজারে দায়িত্ব পালন করা এক চৌকিদার প্রথম একটি দোকানে আগুন দেখতে পান। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। দোকানগুলো পাশাপাশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এর আগেই ১৩টি দোকান পুড়ে যায়। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বলীপাড়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী উহ্লাশৈ জানান, ২০২০ সালে বাজারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে ১০৯টি দোকান পুড়ে যায়। এরপর ২০২৩ সালে ৫০টি এবং ২০২৫ সালেও ১৩টি দোকান আগুনে পুড়ে যায়। এবারও ১৩টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উহ্লাশৈ বলেন, একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আগের ক্ষতি কাটিয়ে ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে না করতেই আবারও আগুনে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে অনেককে।

এদিকে, বুধবারের আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বিন্দু চাকমার ভাষ্য, রাতে বাজারের দোকানগুলোতে সাধারণত কেউ থাকেন না। কোনো দোকানে থাকা ফ্রিজের যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। এটি তাঁর ধারণা, নিশ্চিত কারণ নয়।

বলীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা বলেন, ব্যবসায়ীদের দোকানের মালামালসহ আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রহিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।